কলকাতা, রেশমি ব্যানার্জি: পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করল ভারতীয় রেল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে খড়্গপুর–ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা মিলিয়ে প্রায় ১৭৩ কিলোমিটার রেলপথে মাল্টি-ট্র্যাকিংয়ের কাজ হবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই কথা জানিয়েছেন। আর এতেই খুশির হাওয়া গোটা রাজ্যে।
রেলের এই প্রকল্প যদি বাস্তবে রূপ পায় তাহলে অনেকটাই উপকৃত হবে যাত্রীরা। একইসঙ্গে ব্যস্ত খড়্গপুর রুটে রেলপথের চাপ অনেকটাই কমবে। এতে এই রুটের যাতায়াত আরও মসৃণ হবে। সময়ও অনেকটাই কম লাগবে। পূর্ব উপকূলীয় রেল করিডরের মধ্যে দিয়ে আরও এই পথ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
এই রেলপথ তৈরি হলে যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও অনেকটাই উপকার মিলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা এবং বন্দরগুলি এর মধ্যে দিয়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকৃত হবে। স্টিল, কয়লা, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, গাড়ি, কনটেনার এবং খাদ্যশস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা বাড়বে। পণ্য পরিবহনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে এই রেলপথ। সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এর মধ্যে দিয়ে।
এরই পাশাপাশি এই রেলপথের যোগাযোগ উন্নত হলে সড়কপথে পণ্যবাহী গাড়ির চাপ কিছুটা হলেও কমবে। ফলে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে প্রতিনিয়ত যে যানজট সৃষ্টি হয় তা খানিকটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সময় কম লাগবে ও দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হবে।
পরিকাঠামো উন্নয়নকে দেশের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্রকল্পকে স্বাগত জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে। এটি ভারতীয় রেলের অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।