কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপি-র সংঘর্ষ, বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ক্যাম্পাসের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিনোদন জগতের প্রাক্তনীরা।
ক্যাম্পাসের এই অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে অনুপম রায় পড়ুয়াদের পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানান, ছাত্রাবস্থার আবেগ সবসময়ই খাঁটি। যাদবপুরের মতো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা মেধাবী বলেই শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্ন করতে পারেন, যা কর্তৃপক্ষ বা সরকার সহজে মেনে নিতে চায় না। সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যকে অসম্মান করার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
অনুপমের সুরে সুর মিলিয়ে অনিন্দ্য বসু যাদবপুর প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক তরজা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ‘অনভিপ্রেত’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার কথায়, সাধারণ মানুষের পক্ষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বা কারা প্রতীক ভেঙেছে তা স্পষ্ট বোঝা কঠিন হলেও, এ ধরনের হিংসনীয় আচরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
একইভাবে সুমন মুখোপাধ্যায় দেশের বাইরে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্যাম্পাসে ঘটা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের যৌথ প্রতিবাদী অবস্থানের প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন জানান।
পাশাপাশি উষসী চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র আহত হয়েছেন। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের প্রতীক রক্ষা করা সমস্ত পড়ুয়ার দায়িত্ব। হিংসা ও মারপিট বন্ধ করে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সমাধান এবং পঠনপাঠনের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
সিসিটিভি বিতর্ক ও সমাজের তথাকথিত ‘সুশীল সমাজ’-এর নীরবতাকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানতে চান, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে ক্যামেরা বসানোর দাবি তুলেছিলেন, তাদেরই একাংশ ফুটেজে ধরা পড়ার পরেও কেন প্রশাসন নীরব।
এমনকি অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায়ও পুরো ঘটনাকে সরাসরি ‘গুন্ডামি’ এবং ‘স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও প্রশ্ন তোলার অধিকার দমন করতেই পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে।
ছাত্রাবস্থায় সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন মধুমিতা সরকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণের ঘটনা তিনি মেনে নিতে পারেননি। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সক্রিয়তার চেয়ে পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।