দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। সূর্যপুর এলাকায় একটি নতুন ও স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি (আউটপোস্ট) গড়ে তোলার তৎপরতা শুরু করেছে জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যেই ফাঁড়ির জন্য উপযুক্ত জমির সন্ধান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়ার পর সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল-সহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে, পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত প্রভাসের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি, রাস্তা ও রেল অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এখনও পর্যন্ত মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
বর্তমানে সূর্যপুর এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও, তা কেবল আইনশৃঙ্খলার তদারকি করে। এলাকার বাসিন্দাদের কোনও অভিযোগ জানাতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর থানায় যেতে হয়। স্থায়ী ফাঁড়ি হলে সেই ভোগান্তি কমবে। এতে দুটি সুবিধা মিলবে বলে মনে করছে প্রশাসন--১)স্থানীয় স্তরেই অভিযোগ দায়ের, প্রাথমিক তদন্ত ও আইনি সাহায্য মিলবে।২)নতুন ফাঁড়িতে আগের চেয়ে অনেক বেশি পুলিশকর্মী ও আধিকারিক মোতায়েন থাকবেন। ফলে নিয়মিত টহলদারি ও অপরাধ দমনের কাজ সহজ হবে।
"নির্যাতিতার পরিবারের দাবির ভিত্তিতেই রাজ্যের ডিজি ও স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত ভাড়াবাড়িতেই এই আউটপোস্ট চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"-- মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই জেলা প্রশাসন জমি খোঁজার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখে দেওয়া।




