ই-কমার্সে সাফল্যের পর এবার ফুড ডেলিভারির বাজারেও বড় বাজি ধরতে চলেছে ফ্লিপকার্ট। আগামী স্বাধীনতা দিবস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থা। ন্যূনতম কমিশন, ওএনডিসি-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং আকর্ষণীয় অফারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুইগি ও জোম্যাটোর আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছে ফ্লিপকার্ট।
ফুড ডেলিভারির বাজারে প্রতিযোগিতা লেগেই রয়েছে সুইগি ও জোম্যাটোর মধ্যে। সেই সমীকরন বদলাতে বাজারে আসতে চলেছে ফ্লিপকার্ট। জানা গিয়েছে প্রথম পর্যায়ে ব্যাঙ্গালোরে নির্বাচিত কিছু গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা শুরু করবে ফ্লিপকার্ট। ইতিমধ্যেই একাধিক রেস্তোরাঁকে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের পরিষেবা ভালো ফল দিলেই ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য শহরে সম্প্রসারিত হবে পরিষেবা।
এই পরিষেবার জন্য ফ্লিপকার্ট ব্যবহার করবে ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ONDC)। ONDC-র নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে ফ্লিপকার্টকে আলাদা করে সম্পূর্ণ ডেলিভারি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে না, ফলে দ্রুত পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য ডিজিটাল বাণিজ্যকে আরও উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। ফ্লিপকার্টের অন্যতম কৌশল কম কমিশনের মডেল। বর্তমানে সুইগি ও জোম্যাটো রেস্তোরাঁগুলি থেকে সাধারণত ১৬ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেয়। ফ্লিপকার্ট সংস্থা জানায়, প্রায় ১০ শতাংশ কমিশনে পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। ফলে একদিকে রেস্তোরাঁগুলির খরচ কমবে এবং আরও বেশি ব্যবসায়ী এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে উৎসাহিত হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রাহকরা মূল ফ্লিপকার্ট অ্যাপ এর মাধ্যমে খাবার অর্ডার করার পাশাপাশি পৃথক একটি ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমেও অর্ডার করতে পারবেন।
তবে ফ্লিপকার্টের কম কমিশনের মডেল সফল হলে তার প্রভাব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে ফুড ডেলিভারি প্লাটফর্মে। এতে শুধু রেস্তোরাগুলির ব্যয় কমবে তাই নয়, গ্রাহকরাও কম ডেলিভারি চার্জ, অতিরিক্ত ছাড় এবং আকর্ষণীয় অফারের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে কমিশন কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে সুইগি জোম্যাটোকেও।