মালবাজার, নিউজ ডেস্ক: কাগজে কলমে সবকিছু যেন ঠিকঠাক। সরকারি দফতরের নথিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সই। রয়েছে পরিচয় তৈরির বৈধতার প্রমাণও। কিন্তু, তদন্ত যতই এগিয়েছে, ততই খুলতে শুরু করেছে একের পর এক অসংগতির সূত্র। আর সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার উত্তরবঙ্গের দুই প্রান্তে পুলিশ অভিযান ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।
ভুয়ো জন্ম মৃত্যু সংস্থাপত্র তৈরীর অভিযোগে মালবাজার পুরসভার প্রাক্তন কর্মী প্রসেনজিৎ দত্তকে গ্রেফতার করেছে কালিংপং পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। এই ঘটনায় মেটেলি থেকে আসলাম খান ওরফে আজম খান পাঠান নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনার সূত্রপাত দিনকয়েক আগে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে বসবাসের অভিযোগে আফগান নাগরিক সৈয়দ বিলাল খানকে গ্রেফতার করে কালিংপং পুলিশ। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ধৃত আফগান নাগরিক যে জন্ম-শংসাপত্র ব্যবহার করেছিলো তা নকল । সেই সূত্রে ধরেই তদন্তে নেমে এই প্রসেনজিৎ দত্তের হদিস পায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সে একসময় মালবাজার পুরসভার জন্ম- মৃত্যু শংসাপত্র বিভাগের দায়িত্বে ছিলো । গতবছর তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ সামনে আসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে। সেই সময় তার বিরুদ্ধে আফগান নাগরিকদের ১১টি জাল জন্ম এবং মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো। অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন প্রসেনজিৎ। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন সংশোধনাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে, পুরসভার চাকরি থেকেও তাঁকে বরদাস্ত করা হয়।
বুধবার ফের একইরকম অভিযোগের তদন্তে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কালিংপং থানার পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল । প্রথমেই এদিন তদনন্তকারী দলটি মালবাজার পুরসভায় যায়। সেখানে সংশ্লিস্ট বিভাগের নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। পুর আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মালবাজার থানার পুলিশের সহযোগীতায় ১০নং ওয়ার্ডের বাড়ি থেকে প্রসেঞ্জিতকে গ্রেফতার করা হয় ৷ তদন্তকারীদের অভিযোগ, তৎকালীন পুরপ্রধান এবং বিভাগীয় আধিকারিকদের ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সে জাল শংসাপত্র তৈরি করত।এরজন্য যে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন হত তা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, মেটেলি থেকে গ্রেফতার করা হয় আসলান খান ওরফে আজম খান পাঠান নামে এক ব্যক্তিকে। অভিযোগ, এই ব্যক্তি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে জাল জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি করার কাজ করত এবং মোটা অর্থের অংকের বিনিময়ে অবৈধভাবে এদেশে আসা অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিতো । দুই অভিযুক্তকেই বুধবার রাতেই কালিম্পং নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, এরপর আজ তাঁদের আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেবে পুলিশ।
