কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একটা মঞ্চ, সামনে বিপুল ভিড় আর চারপাশে গেরুয়া পতাকার ঢেউ। যাদবপুরের মাটিতে বুধবার সন্ধ্যায় সেই দৃশ্য ঘিরে তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। মিছিল শেষ হওয়ার পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক মন্তব্য যেন স্পষ্ট করে দিল, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি পদযাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। যাদবপুরকে ঘিরে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত মিলল তাঁর বক্তব্যে। এবং তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
৯ সেপ্টেম্বর বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের ৮বি বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজন করা হয় 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা'। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটেন বহু বিজেপি কর্মীসমর্থক, সাধু-সন্ত ও নাগা সন্ন্যাসী। শঙ্খ ধ্বনি, উলুধ্বনি ও গেরুয়া পতাকায় কার্যত এক আলাদা চেহারা নেয় মিছিলের পথ।
এই পদযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা যায় যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়, পরিবহন মন্ত্রী তাপস রায়, এবং পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজকে। পাশাপাশি, যাদবপুরে পৌঁছে 'বন্দেমাতরম' গানেও অংশ নেন মিছিলকারীরা।
মুখ্যমন্ত্রী মিছিল শেষে ৮বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তোলেন। মঞ্চে 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী' র মতো স্লোগান এবং মাওবাদী নেতা কিষেনজিকে 'রেড স্যালুট' দেয়ার অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের দেশবিরোধী কার্যকলাপ বাংলায় বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন, নিজের সংকল্পের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যারা গেরুয়াকে অপমান করেছেন বা 'গেরুয়া তাণ্ডব' লিখেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এও জানান এই যাদবপুরে তাঁদের 'শেকড়-সহ উপড়ে ফেলার' শপথ নিয়েছেন।
পাশাপাশি, তাঁর বার্তা স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে 'গেরুয়াই হবে'। এছাড়াও ধর্মীয় কর্মসূচির কথাও জানার মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের আহবানে যাদবপুরে আরও দুবার আসার কথা জানান তিনি। একদিন বেদ ও গীতা পাঠ এবং অন্যদিন হনুমান চালিশা পাঠ করার ঘোষণা করেন।
পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কর্মীদের জন্য 'ইন্টার ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফার পলিসি' আনার কথা জানিয়ে বিধানসভায় বিল পাস করার কথাও জানান তিনি। ফলে, যাদবপুরে 'গেরুয়া সম্মানযাত্রার' শেষে মঞ্চ থেকে একদিকে রাজনৈতিক হুশিয়ারি, অন্যদিকে ধর্মীয় কর্মসূচি ও শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের বার্তা, একসঙ্গে একাধিক ইস্যু সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।