কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। আর লেনদেনের খাতায় উঠে এসেছে একের পর এক বড় অঙ্ক। টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তদন্তের গতিপথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন খুলছে নতুন তথ্যের দরজা। বুধবার আদালতে এমন কিছু আর্থিক তথ্য পেশ করল রাজ্য, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা। যা শালবনির জমি মামলা তদন্তে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের আরও দাবি, ওই বিপুল অঙ্কের মধ্যে শুধুমাত্র গত জুন মাসে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। এই টাকার উৎস খতিয়ে দেখতে সুমিত রায়কে প্রশাসনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে দাবি জানায় রাজ্য।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দারস্ত হয়েছিলেন সুমিত রায়। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানিতে তুষার মেহতা দাবি করেন, জমি দুর্নীতির তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে, তা শুধুমাত্র একটি হিমশৈলের চূড়ান্ড মত। অর্থাৎ তদন্ত আরও এগোলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত রাজ্যের। এর পাশাপাশি সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলে রাজ্য। রাজ্যের দাবী, বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করায় তিনি সন্তোষজনক উত্তর দেননি এবং একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। যদিও, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে সুমিত রায়ের আইনজীবীপক্ষ।
এর আগে গত শুনানিতে বিপুল আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গ উঠে আসার পর সুপ্রিম কোর্ট সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদে রেকর্ড দেখতে চেয়েছিল। বুধবার সেই নির্দেশ মেনে রাজ্য পুলিশের তরফে জিজ্ঞাসাবাদে লিখিত রেকর্ড ও ভিডিও আদালতে জমা করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। তবে, শীর্ষ আদালত আপাতত তাঁর গ্রেপ্তারের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতের আদেশ দিয়েছিল। এবার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকা লেনদেনের দাবী সামনে আসায় মামলাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জমি মামলার সঙ্গে এই বিপুল অর্থের উৎসের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তারই উত্তর খুঁজছে রাজ্য। আগামী বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।