নন্দীগ্রাম, নিউজ ডেস্ক : উপনির্বাচনের আগে আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল, নন্দীগ্রামে মমতাকে ওয়াকওভারের বার্তা ঋতব্রত শিবিরের, রেজিনগরে মনোনয়ন হুমায়ুন-পুত্রের। দুর্গাপূজার প্রাক্কালে রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, উপনির্বাচনের দামামা বাজতেই তা চরম আকার ধারণ করেছে।
একদিকে কালীঘাট গোষ্ঠী, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির দলীয় প্রতীক 'জোড়াফুল' কার দখলে থাকবে, সেই লড়াই যখন তুঙ্গে, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কৌশলী রাজনৈতিক বার্তা দিল ঋতব্রত পন্থীরা। নন্দীগ্রামে খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋতব্রত শিবিরের জাতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত।
তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত ফের নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই জিতে বিধানসভায় ফেরা, দলনেত্রী প্রার্থী হলে তাঁরা সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। একই সুর শোনা গিয়েছে দলের কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের গলাতেও। তাঁর মতে, নন্দীগ্রামের অতীত ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে স্বপ্নপূরণের এটাই মোক্ষম সুযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তবে এই প্রেক্ষাপটে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতা আবু তাহেরের গলায়।
অতীতে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত না নিয়ে প্রার্থী হওয়া এবং আন্দোলনের কর্মীদের একাধিক মামলার বোঝা বহনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, সুসময়ে নয়, দলের এই দুর্দিনে নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই লড়াই করে দেখান মমতা।
অন্য দিকে, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা উভয় আসন থেকেই জয়ী হওয়ার পর রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। বুধবার থেকে মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই হুমায়ুন কবীরকে পাশে নিয়ে বহরমপুরের প্রশাসনিক ভবনে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিন।
বিরোধীরা এখনও রেজিনগরে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত না করলেও, বৃহস্পতিবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পরই দুই কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের দাবি, রেজিনগরে বহিরাগত নয়, লড়াইয়ের ময়দানে নামানো হবে কোনও স্থানীয় ভূমিপুত্রকেই। একই সঙ্গে জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং মুর্শিদাবাদে এসআইআর সংক্রান্ত কারণে আটকে থাকা ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরাতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে তারা।
দলীয় প্রতীক না পেলে প্রার্থীরা নির্দল হিসেবে ময়দানে নামবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছে এই শিবির। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর গণনার দিন ধার্য হয়েছে, যার ফলে উৎসবের মরসুমেও দুই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে।