বারুইপুর, নিউজ ডেস্ক: ঘরের ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ নেই। বাইরের থেকে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না, কয়েক ঘন্টা আগে ওই বাড়ির ভিতরেই ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ ঘটনা। এরপরে ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, এলোমেলো বিছানা এবং নিথর অবস্থায় পড়ে থাকা এক বৃদ্ধ। ঠিক কি ঘটেছিল ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে? পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করতেই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
বারুইপুর থানার শিখরবালি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনবেড়িয়ায় ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রে খবর, মৃতের নাম জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নস্কর। অভিযোগ, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই বৃদ্ধের উপর হামলা চালান তাঁর ছেলে রামপ্রসাদ নস্কর এবং পুত্রবধূ শিখা নস্কর। ঘটনায় ইতিমধ্যেই শিখা নস্করকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক ছেলে রামপ্রসাদ নস্কর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বাড়িতে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর ছেলে বৌমার বচসা শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয় বলে অভিযোগ। তাঁকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় বলেও জানা গিয়েছে। শাবল দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করা হয়েছিল বলেও দাবি। এমনকি, বৃদ্ধ সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও তাঁকে ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, ওই সময় মারধরের মধ্যে শিখা নস্করের চোখেও আঘাত লাগে। এরপর আহত স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান রামপ্রসাদ। কিন্তু, বৃদ্ধ তখনও রক্তাক্ত ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়েছিলেন বলে, প্রতিবেশীরা দাবি। বিকেলের দিকে যখন স্বামী-স্ত্রী বাড়িতে ফিরে আসেন, তখনই তাঁরা দেখতে পান বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ঘরের বিছানা ও তোষক রক্তে ভিজে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এরপর, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠে।
তবে, শেষ রক্ষা হয়নি। বৃদ্ধের আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। এরপর প্রাথমিক তদন্তের পর শিখা নস্করকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তাঁর স্বামী রামপ্রসাদ নস্কর ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
নিজের প্রিয়জনদের হাতে বৃদ্ধের এই খুন হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে রক্তের সম্পর্কের গুরুত্বের উপর। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদই কি এই ঘটনার মূল কারণ, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা।