কলকাতা, পিউ নন্দী: নভেম্বরে প্রকাশ পেতে চলেছে সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং- এ জার্নি অফ লাভ’।
বইটিতে ইতালির একটি ছোট শহরে বেড়ে ওঠা সোনিয়ার থেকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রেম, পরে কংগ্রেসের নেতা হয়ে ওঠার,নিজের জীবনের ব্যক্তিগত সব কাহিনী এই বইয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সোনিয়া গান্ধী।
প্রকাশনা সংস্থা ‘আলফ্রেড এ নফ’-র সূত্রে জানা গেছে আগামী ১০ ই নভেম্বর প্রকাশ পাবে বইটি।এতে তার বিবাহিত জীবন, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড, রাজনীতিতে তার প্রবেশ এবং কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেওয়ার সমস্ত দিকই তুলে ধরা হয়েছে তাই এই বইয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বইপ্রেমী মানুষ থেকে রাজনীতিবিদের অনেকেই।
এই বই প্রকাশের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মায়ের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধীর ছেলে তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, “৩৫ বছরেরও বেশি সময় আগে তোমাকে আর পাপাকে একসঙ্গে শেষবার দেখেছিলাম।” তিনি খুশি এবং গর্বিত যে ‘Belonging: A Journey of Love’ এবার সেই সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছবে, যাঁরা সনিয়াকে ভালোবাসেন। তাঁর কথায়, “আমি পাপাকে দেখতে পাচ্ছি,তিনি গর্বিত হয়ে তাঁর সুন্দর সনিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসছেন।”
তাঁর বক্তব্য, এতদিন যিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে অত্যন্ত গোপন রেখেছেন, তাঁর পক্ষে নিজের জীবনের গল্প গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সহজ ছিল না।
রাজিব গান্ধীর মৃত্যুর পর থেকে সোনিয়া গান্ধীর জীবনের কঠিনতম সময়গুলিতে পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে দেখেছেন রাহুল গান্ধী। এবার সেই মায়ের জীবনের গল্পই পৌঁছতে চলেছে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে তাই তাই অত্যন্ত গর্বিত তিনি।
যুদ্ধোত্তর ইতালির এক সাধারণ তরুণী থেকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কাণ্ডারী সনিয়া গান্ধীর এই রূপান্তরের নেপথ্য কাহিনী এবার উঠে আসতে চলেছে তাঁর ৫৪৪ পাতার আত্মজীবনী ‘Belonging’-এ। কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রেম, ১৯৬৮ সালে বিবাহ এবং পরবর্তীতে ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মতো একের পর এক ব্যক্তিগত বিপর্যয় কীভাবে তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছিল, তা জানতে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে পাঠকদের মধ্যে।
শোক সামলে দীর্ঘদিন দূরে থাকার পর ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের রাশ হাতে নেওয়া, দলের রাশ শক্ত করে ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকার গঠন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে প্রধানমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে মনমোহন সিংকে দায়িত্ব সঁপে দেওয়ার নেপথ্য সমীকরণ এই বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ। রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ভাবনা, ইউপিএ-২ পর্বের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর উত্থানের পর কংগ্রেসের বিপর্যয়ের মূল্যায়নের দিকেও।
প্রকাশক সংস্থা সূত্রে স্পষ্ট, প্রেম, ত্যাগ, পরিবার ও ক্ষমতার টানাপোড়েনের এক অকপট দলিল হতে চলেছে এটি। রাহুল গান্ধীর আবেগঘন বার্তাতেও স্পষ্ট হয়েছে মায়ের লড়াইয়ের গুরুত্ব। ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা নাকি সমকালীন রাজনৈতিক ইতিহাসের নির্ভীক পর্দাফাঁস ‘Belonging’ আসলে কী বার্তা দেয় তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বই প্রেমীরা।