কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত। ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগত এনে হামলা, ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন কুণাল ঘোষ। সরাসরি কোনও পক্ষের হয়ে সাফাই না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগত প্রবেশ এবং হামলার ঘটনায় কড়া আপত্তি জানান তিনি। কুণালের বক্তব্য,‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইরে থেকে ঢুকে সেখানে হামলা করা হবে, আগুন, হুমকি কোনও অবস্থায় সমর্থন করা যায় না।’ কুণালের দাবি,‘তৃণমূলের আমলে কোনও এরকম ঘটনা ঘটেনি, আমরা এই ঘটনাকে সমর্থনও করি না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপাচার্য জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। একইসঙ্গে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের উপর বিধিনিষেধের কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।
আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কুণাল ঘোষের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যে কোনও ধরনের হামলা, আগুন বা হুমকির বিরোধিতা করছে তৃণমূল। ফলে যাদবপুরের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।