রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া। সরগরম হয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে বিশেষ ধর্মের প্রতি 'টার্গেট' রাজনীতি। এককথায় বলতে গেলে সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্মীয় বিদ্বেষের অত্যাচার। নালিশ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরেও। এই প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বুঝিয়ে দেন, তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন এই ব্যাপারে।
বিদ্রোহী শিবিরের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের সুরে সুর মিলিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল, "আগামী শুক্রবারের মধ্যে আমরা হাই কোর্টে যাচ্ছি।" শুক্রবার অর্থাৎ, ৭ই জুলাই, ২০২৬ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতপন্থী তৃণমূলের প্রায় ১৬ বিধায়ক বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মাইক খোলার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন তাঁরা। ঋতব্রত জানান, ‘ধর্ম আসলে অঙ্গাঙ্গিকভাবে আমাদের জীবনধারণের সঙ্গে জড়িয়ে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি। এই বিষয়টা নিয়ে কোর্টেও যাব। আমাদের মধ্যে আইনজীবী বিপ্লব দা, অরূপ দা আছেন, তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে আগামী সপ্তাহেই কোর্টে যাব।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দূষন সংক্রান্ত ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সভাঘরের অনুষ্ঠান থেকে তিনি বলেছিলেন, 'যে সমস্ত ধর্মীয় স্থান থেকে কোনও ভাবে শব্দ দূষণ হয় না, তাদের ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। যে সব ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক খোলা হচ্ছে, সেগুলি পারস্পরিক সম্মতিতেই হচ্ছে। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনও জোর জবরদস্তি যেন না করা হয়।'
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক মহলে। রাজ্য বিধানসভার বিধায়ক, আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকির অভিযোগ তোলেন কোনও নোটিস ছা়ড়াই মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে। কেন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যান আবু তাহের চৌধুরী, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠানের মতো বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। এবার দেখার এই ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত কী হয়?