শিলিগুড়ি, নিউজ ডেস্ক: দিন শুরু হচ্ছে এক সমস্যাকে সামনে রেখে আর দিনের শেষে যোগ হচ্ছে আরও এক আশঙ্কা। প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন জলের জন্য অপেক্ষা এবং তার মধ্যেই জমে থাকা জল নিয়ে চিন্তা। বাড়ির বাইরে বেরোলেই মশার উপদ্রব, আর বাড়ির মধ্যে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জল সংকট। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে নাগরিক পরিষেবার এই সমস্যা কবে মিটবে?
শিলিগুড়ির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত এবং নিরাপদ পানীয় জল নিয়মিত মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয়দের বক্তব্য, শিলিগুড়ি বর্তমানে মেট্রোপলিটন শহর হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা বাড়ছে, বাড়ছে জনসংখ্যা এবং নাগরিক পরিষেবার চাহিদা। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত পানীয় জলের মতো মৌলিক সুবিধা নিয়ে অনিয়ম তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
জলের সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। পানীয় জল থেকে রান্না, প্রতিটি প্রয়োজনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। অনেককেই বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এরই মধ্যে বর্ষার জল জমে থাকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় জমা জল এবং অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থার কারণে মশার বংশবৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই দুই সমস্যার জেরে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্রমশ উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জমা জল দ্রুত সরানো এবং নিকাসি ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, সমস্যা গুলিকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। বর্ষার সময় জল জমে থাকলে মশা বাহিত রোগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জল সরবরাহ এবং জল নিকাশি ব্যবস্থা সব ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। এখন বাসিন্দাদের নজর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই। কবে মিলবে দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যা, এবং ডেঙ্গুর আশঙ্কা কমাতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই উত্তর খুঁজছেন শিলিগুড়ির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।