কোচবিহার, নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকার কাটার আগেই চোখে পড়ে বিপদের চিহ্ন। নদীর পাড়ের মাটিতে তৈরি হয়েছে ফাটল, কোথাও আবার মাটির সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। নদীর স্রোতের শব্দ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে আতঙ্ক। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা নিয়েও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা। রবিবার রাতের পর থেকে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় এলাকাবাসী।
তোর্সা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় কোচবিহার জেলার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নদীর তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। স্থানীয়দের দাবি, রবিবার রাত থেকেই নদীর জল আচমকায় বাড়তে থাকে। বাড়ার সাথে সাথে তীব্র স্রোত হয় এবং তার প্রভাব পড়তে থাকে নদীর তীরবর্তী এলাকায়। একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা যাওয়ায় পাশাপাশি এলাকায় মাটি সরে যেতে শুরু করেছে। জলের প্রবল স্রোতে ইতিমধ্যেই কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নদী পাড়ের খুব কাছে থাকা বাড়িগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন অনেকেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী যেভাবে বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে তাতে পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে জলস্তর যদি ফের বৃদ্ধি পায় তাহলে নদী পাড়ের নতুন করে ভাঙ্গনের আশঙ্কা তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গের একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকায় জলস্তর বৃদ্ধি ও বন্যার প্রভাবের মধ্যেই তোর্সা নদীতে এই পরিস্থিতি নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের হাতে ত্রাণ ও সামগ্রী তুলে দেন।
তবে, স্থানীয়দের মূল দাবি ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নদী ভাঙ্গন রোধ করতে দ্রুত পাড় বাঁধানোর এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। কারণ নদীর জলশ্রোত এখনও থামেনি এবং তারসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘর হারানোর ভয়।