নিউজ ডেস্ক: চারপাশে যখন চড়া বিটের ডিজে আর কানফাটানো বক্সের তাণ্ডবই গণেশোৎসবের চেনা ছবি হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই উল্টো স্রোতে হেঁটে এক অপূর্ব মাটির টান দেখাল পশ্চিম উপকূলের কোঙ্কণ।
আধুনিকতার চাকচিক্য কিংবা দেখনদারি নয়, স্রেফ বুকভরা ভক্তি আর নিজস্ব লোকসঙ্গীতকে সম্বল করেই গণপতি বাপ্পাকে চোখের জলে বিদায় জানালেন এলাকাবাসীরা। কোনো ট্রাকে চাপিয়ে নয়, ঘরের আপন মানুষকে যেভাবে আগলে রাখা হয়, ঠিক তেমনই নিজেদের মাথায় প্রতিমা তুলে নিয়ে ভক্তদের নদীঘাটে যাওয়ার সেই দৃশ্য মন ছুঁয়ে নিয়েছে তামাম সামাজিক মাধ্যমে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে সামনে আসা দৃশ্যটিতে দেখা যাচ্ছে, সবুজ গাছপালা আর লালচে মাটির আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে এগিয়ে চলেছে শান্ত এক পদযাত্রা। সেখানে হুড়োহুড়ি নেই, নেই কোনো যান্ত্রিক বাদ্যযন্ত্রের বিকট আওয়াজ। সারিবদ্ধভাবে পথ চলছেন পুরুষ ও মহিলারা। তাঁদের প্রত্যেকের মাথায় কাঠের পাটাতনে সাজানো রয়েছে গৃহকোণ থেকে আনা ছোট ছোট গণেশ ও গৌরীর বিগ্রহ। পা ফেলতে ফেলতেই সকলের কণ্ঠে এক সুরে বেজে উঠছে বিদায়ের সনাতনী আরতি ও ভক্তিগীতি। স্থানীয়দের গলার সেই স্বতঃস্ফূর্ত সুরেই যেন গমগম করছে গোটা পথ।
কোঙ্কণের মানুষদের কাছে গণপতি যেন তাদের পরিবারের একজন অতি প্রিয় অতিথি। ফলে বিদায়ের সময়টি তাঁদের কাছে আনন্দের আতিশয্যের চেয়েও এক বিষাদমাখা মুহূর্ত। তাই আধুনিক কৃত্রিমতার আশ্রয় না নিয়ে বংশপরম্পরায় চলে আসা নিয়মে, নিঃশব্দ ব্যাকুলতায় তাঁরা সঙ্গ দেন দেবতাকে।