স্পোর্টস ডেস্ক: শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মহারণ। তার আগে আপাতত চর্চায় ব্রাজিলের ফুটবলারদের খাওয়াদাওয়া। মাঠে নামার আগে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে শুধু অনুশীলন নয়, নজর রয়েছে পুষ্টিকর খাবারের দিকেও। কলকাতায় ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের জন্য ভারতীয় ও বাঙালি খাবারের আয়োজন থাকলেও আপাতত নিজেদের শেফের হাতের রান্নাতেই ভরসা রাখছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, দলের সঙ্গে আসা শেফের তৈরি খাবারই খাচ্ছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। তাঁদের পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে প্রতিদিনের মেন্যু। ফলে কলকাতায় এসে বাঙালি খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আপাতত নিজেদের পরিচিত খাবারকেই সঙ্গী করেছেন ব্রাজিলীয় তারকারা।
সূত্রের খবর, ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের দুপুর ও রাতের খাবারের মেন্যুতে থাকছে ভাত, স্প্যাগেটি, বেকড বিনস, মাছ, চিকেন এবং মাংসের নানা পদ। সঙ্গে থাকছে গ্রিন স্যালাড। খাবারের তালিকায় রয়েছে অল্প পরিমাণে ডেজার্টও। তবে ভিনি-এনদ্রিকদের বিশেষ পছন্দ মাছ। তাই তাঁদের খাবারের তালিকায় মাছের নানা পদ রাখার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন দলের রাঁধুনী। কলকাতায় থাকাকালীন যাতে পছন্দের খাবার পেতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থাই করা হয়েছে বলে খবর। বিভিন্ন ধরনের তাজা মাছ দিয়ে ফুটবলারদের জন্য রান্না করছেন শেফ। দলের পুষ্টিবিদ ও শেফের পরিকল্পনা মেনেই তৈরি হচ্ছে খাবার। ফুটবলারদের শরীরচর্চা এবং মাঠের পারফরম্যান্সের কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে এই বিশেষ মেন্যু।
সকালের জলখাবারেও রয়েছে ব্রাজিলীয় ছোঁয়া। সূত্রের খবর, হোটেলে ঘুম থেকে উঠে নিজেদের শেফের তৈরি খাবার দিয়েই ব্রেকফাস্ট সেরেছেন ফুটবলাররা। সকালের মেন্যুতে ছিল ব্রেড, সেদ্ধ ডিম, ফল এবং সবুজ শাকসবজির স্যালাড। সঙ্গে ছিল কোলাও। ভারী খাবারের পরিবর্তে সকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবারেই জোর দিয়েছেন তাঁরা। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল কাটিয়ে শরীরকে চনমনে রাখার পাশাপাশি পরবর্তী দিনের অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতেও এই খাবার গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার হোটেলে তাঁদের জন্য যে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাতে দলের নিজস্ব শেফের ভূমিকাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে খাবার আনার পরিবর্তে নিজেদের পরিচিত রান্নার উপরেই আস্থা রাখছেন ফুটবলাররা।
খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি শারীরিক প্রস্তুতিতেও কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না ব্রাজিল শিবির। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে হোটেলেই হালকা জিম করেছেন ফুটবলাররা। দীর্ঘ যাত্রার পর শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো এবং পেশির নমনীয়তা বজায় রাখাই ছিল সেই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য। আপাতত ভারী অনুশীলনের পরিবর্তে হালকা শরীরচর্চাতেই জোর দেওয়া হচ্ছে। মাঠে নামার আগে বিশ্রাম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছেন দলের কর্তারা। কলকাতায় ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন থাকলেও তাঁদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় আপাতত প্রাধান্য পাচ্ছে নিজেদের শেফের রান্না। বাঙালি খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ সামনে থাকলেও পরিচিত খাবারেই আপাতত স্বচ্ছন্দ ব্রাজিলের তারকারা।
