কলকাতা, অঙ্কন দাস: দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে 'এসএফআই' বনাম 'এবিভিপি'র সমর্থকদের মধ্যে প্রবল হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ব্যাপারে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-র বিরুদ্ধে এবিভিপি সমর্থকদের ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুই পক্ষের এই সংঘর্ষে এবিভিপি-র চারজন সমর্থক জখম হন। আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। এদিন এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জিবি (জেনারেল বডি) বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এই বৈঠকের বিরোধিতা করে এবিভিপি। তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। কারণ তাদের বক্তব্য ছিল, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন নেই। এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। একারনেই বাম সংগঠনগুলো কীভাবে একা জিবি মিটিং ডাকতে পারে? এনিয়ে তারা প্রশ্ন করে। এবিভিপির সদস্যদের অভিযোগ, এই প্রতিবাদ চলাকালীন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন এসএফআই সমর্থক মিলে এবিভিপি সমর্থকদের ওপর আচমকা চড়াও হয়। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এই ঘটনায় এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাস সহ একাধিক পড়ুয়া আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দেশবিরোধী স্লোগান দিয়েছে এসএফআই। এই অভিযোগ তুলেছে এবিভিপি। অন্যদিকে, সংঘর্ষের খবর পাওয়ামাত্রই হাসপাতালে আহত ছাত্রদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে , তাদের সাথে দেখা করতে পৌঁছান এলাকার বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি যাদবপুর থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বিধায়িকার সাফ দাবি, 'বামপন্থী সংগঠনগুলো চক্রান্ত করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বারবার উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।' এই বিষয়ে বিধায়িকা বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।অন্যদিকে, এই হামলার প্রতিবাদ করে, দোষীদের শাস্তির দাবিতে যাদবপুর থানার সামনে জোরালো বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে এবিভিপির সমর্থকেরা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবিভিপি বনাম এসএফআই- র এই দলীয় হিংসা নতুন কিছু নয়। চলতি মাসেই, ১৩ই অগাস্ট,মঙ্গলবার আত্মবলিদান দিবস পালনের সময় বারাসতে ধ্রুবচাঁদ হালদার কলেজেএসএফআইয়ের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এবিভিপির বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন কলেজের বাম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরের দিন কলেজ প্রিন্সিপালের ঘরের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন ছাত্রছাত্রীরা। অধ্যক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে আন্দোলন উঠে যায়। ঘটনায় অদিতি মণ্ডল নামে এসএফআইয়ের এক ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, 'এবিভিপির ছেলেরা গায়ে হাত দিয়েছে। আমাদের ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে। প্রতিদিন ওরা কলেজ গেটে জমায়েত করে মেয়েদের গায়ে হাত দেয়।' সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেয় বিজেপির ছাত্র সংগঠন। অপূর্ব বৈদ্য নামে সংগঠনের এক ছাত্র দাবি করেন, 'মিথ্যা বলা হচ্ছে ওরা। আমাকে মারধর করা হয়েছিল। আমরা জমায়েত করি না।' এব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ সত্যব্রত সাউ কোনো মন্তব্য করেননি।