কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: শনিবার পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করতে গিয়ে মেজাজ হারান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাস্তায় উনুন জ্বালিয়ে দুধ গরম করছিলেন এক প্রৌঢ়া। তা দেখে রীতিমত ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। এবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন কুণাল ঘোষ।
কুণালের দাবি, তিনি ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করে জানতে পারেন, মহিলার নাম সীতা। পাঞ্জাবের বাসিন্দা ওই মহিলা হিন্দু পরিবারে জন্মেছিলেন। পরে এক মুসলিম ব্যক্তিকে বিয়ে করার পর তাঁর নাম রশিদা হয়েছে। স্বামী চলে যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর এক ছেলে মারা গিয়েছেন। এক মেয়েও স্বামী-পরিত্যক্তা বলে জানিয়েছেন ওই মহিলা।
কুণালের বক্তব্য, বর্তমানে মেয়ে ও ছোট নাতনিকে নিয়ে ফুটপাথের ধারে থাকেন ওই মহিলা। কোনও স্থায়ী ঝুপড়ি তৈরি করেননি তাঁরা। বরং রাস্তা ও ফুটপাথ পরিষ্কার রাখা, আবর্জনা সংগ্রহের মতো কাজ করে দিন কাটান। আশপাশের দোকানদারদের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সমস্যা নেই বলে দাবি ওই মহিলার। তবে
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর সফরের পর পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বলেছে বলে অভিযোগ।
কুণালের প্রশ্ন, উন্নয়ন কি শুধুই উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? তাঁর বক্তব্য, ফুটপাথে কোনও মাকে কেন সন্তানের দুধ গরম করতে হচ্ছে, সেই কারণটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। গরিব মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে সেই উন্নয়ন কতটা মানবিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
পাশাপাশি, বিধায়ক আর্জি জানিয়েছেন, ‘পুলিশকে অনুরোধ করলাম, আমরাও চাই ফুটপাত সাফ হোক। তবে এদের মেরে তুলবেন না। সরকারকে বলুন, যাতে এদের কোনও হোম বা আশ্রয়স্থলে পাঠানো যায়। একটু সময় না-দিয়ে গরিব মা, মেয়ে, নাতনিকে রাষ্ট্রশক্তির উচ্ছেদ-শাসনে বলি দেওয়া অমানবিক হবে।’