ডাক এসেছে লালকেল্লা থেকে, কিন্তু যাওয়ার সামর্থ্য কোথায়? আনন্দকে যেন গ্রাস করেছে আর্থিক অভাব। আর তাতেই যেন মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে সেলিমা। দেশজুড়ে লাখ লাখ পড়ুয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। 'বিকশিত ভারত' বিষয়ে ইংরেজিতে প্রবন্ধ লিখে জাতীয় স্তরে নির্বাচিত সেরা ২০০ জনের মধ্যে নিজের নাম তুলে এনেছে সে। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ডাক পেয়েছে সেলিমা কিন্ত স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আর্থিক অভাব।
সুন্দরবনের ফুলমালঞ্চ ঋতু ভকত উচ্চমাধ্যমিক হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। বাবা সেলিম মোল্লা দিনমজুর ও মা রেহেনা মোল্লা গৃহবধু। তারা দুই বোন, দুই ভাই। তাদের মধ্যে বড় সেলিমা।সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সংসার চালাতে চলে প্রতিদিনের হাড় ভাঙা খাটুনি আর লড়াই। তবে মেয়ের পড়াশোনায় কোনও খামতি রাখেননি বাবা। সেলিমারও রয়েছে পড়াশোনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী সে, প্রিয় বিষয় ইংরাজি।
সম্প্রতি ‘বিকশিত ভারত’ প্রসঙ্গে ভারত সরকার এক প্রবন্ধ লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেই প্রতিযোগিতার জন্য ইংরাজিতে ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখে স্কুল শিক্ষকের কাছে জমা দিয়েছিল সেলিমা। পরবর্তীতে সেই লেখা দিল্লিতে পাঠানো হয়। মেলে তার ফলও। জাতীয় স্তরে নির্বাচিত সেরা ২০০ জনের মধ্যে নিজের জায়গা করে রয়েছে সে।খবর তার কাছে এসে পৌঁছাতেই প্রথম যেন তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই খবর। আবেগে চোখের জল চলে আসে তার, কে যেন তার কাছে এক স্বপ্নের মত। তারই সাফল্যে গর্বিত পরিবার সহ গোটা গ্রাম।
কিন্তু এই খুশির মাঝেও যেন দুশ্চিন্তা গ্রাস করছে তাকে। সে কিভাবে পৌঁছাবে দিল্লি?রোজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ মিনিট সাইকেল চালিয়ে যেতে হয় স্কুলে সেখানে দিল্লি যাতায়াতের এই বিপুল খরচ বহন করে দিল্লিতে পৌঁছাবে কি করে সে ? সেটাই এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই সংশয়ের মাঝেই ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায় রাজ্যের শিক্ষা দফতর, সেলিমার স্কুল এবং স্থানীয় বিধায়ক। প্রশাসনিক অনুমতি ও আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা।যাতে সেলিমা পৌঁছাতে পারে দিল্লিতে। আর্থিক বাধা সমস্ত প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে সেই কারণেই এগিয়ে এসেছেন তাঁরা।