নিউজ ডেস্ক: সন্ধ্যা নামলেই একসঙ্গে আলোয় ভোরে উঠতে পারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। সাতটা বাজতেই একই সঙ্গে জ্বলে উঠবে হাজার হাজার প্রদীপ। বাড়ির উঠোন থেকে গঙ্গার ঘাট, স্কুল চত্বর, আলোর এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। তবে, এবার শুধুমাত্র দলীয় কর্মী বা সাধারণ মানুষ নন এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে স্কুল পড়ুয়ারাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে এই কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তোড়জোড়।
আগামী ১৭ ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় দেশ জুড়ে 'আশীর্বাদ কা দিয়া' বা 'আশীর্বাদের প্রদীপ' জ্বালানোর কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই কর্মসূচি বড় আকারের পালনের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনের ২৫ বছরের পূর্তিকে সামনে রেখে বিজেপি মাসব্যাপী 'সেবা সংকল্প অভিযান' শুরু করেছে। বিজেপির সাংগঠনিক স্তর থেকে এই কর্মসূচিকে বুথ স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রদীপ প্রজ্জলন সেই প্রচারেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
এই উদ্যোগে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বিশেষভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে যারা উপকৃত হয়েছেন তাঁদের নিজেদের বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জলন করার আহ্বান জানানো হবে। বাড়ি ঘরের পাশাপাশি পঞ্চায়েত ভবন, হাসপাতাল, গঙ্গার ঘাটের মত জায়গায় প্রদীপ জ্বালানোর আয়োজন করা হতে পারে।
তবে, বাংলায় এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে স্কুলগুলি। শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকারি, বেসরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিকে এই উদ্যোগে সামিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ুয়াদের ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় স্কুলে এসে প্রদীপ জ্বালাতে বলা হবে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের পরিবারের সদস্যদেরও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, একটি বিধানসভা কেন্দ্রের অঞ্চলগুলির স্কুলগুলির জন্য প্রায় ২৫ হাজার প্রদীপের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্য কেও সামনে রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে সামনে রেখে বিজেপির এই মাসব্যাপী 'সেবা সংকল্প অভিযান'-এ প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পাশাপাশি আরও নানা সামাজিক ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। তবে, ১৭ ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার 'আশীর্বাদের প্রদীপ' কর্মসূচি বিশেষভাবে নজর কাড়তে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।