রাজনীতির ময়দানে জয়-পরাজয়, ক্ষমতার উত্থান-পতন কিংবা কারাবাস— কোনো ঝড়ঝাপ্টাই এতদিন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্যে চির ধরাতে পারেনি। শত মান-অভিমানের পরেও সবসময় ‘দিদি’র পাশেই দাঁড়িয়েছেন ‘ভাই’ মদন মিত্র। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তলব আসতেই যেন রাতারাতি বদলে গেল চেনা ছবিটা। কালীঘাটের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গ ত্যাগ করলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ‘আসল তৃণমূলে’।
তবে দল ছাড়লেও দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আর স্মৃতির আবেগকে এক ঝটকায় মুছে ফেলতে পারেননি মদন। দলবদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিদায়ী নেত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান তিনি। সেখানে কেবল লেখা ছিল, ‘সরি’। সাংবাদিক বৈঠকে দলনেত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।” তবে এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামিদিনে কালীঘাটের চৌকাঠ আর মাড়াবেন না তিনি।
দলবদলের পর বিধানসভার বাইরে এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠকে মদন মিত্র দাবি করেন, তিনি তৃণমূলের আদর্শেই আছেন, কেবল ঘর বদল করেছেন। তাঁর কথায়, “ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।”
একই সঙ্গে জোড়াফুল শিবিরের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেন মদন মিত্র। দল ‘হিটলারি কায়দায়’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূলের হাল এখনই না ধরলে বিজেপিকে হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে তা সম্ভব নয়। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে চলে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।” মদন মিত্রের এই দলবদল এবং সুর চড়ানোর ঘটনা রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে যে বড়সড় কম্পন তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।