মালদা, নিউজ ডেস্ক: ঘরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছবে, এই আশ্বাসেই দরজায় এসেছিলেন এক প্রতিনিধি। হাতে ছিল একটি ফর্ম এবং সঙ্গে ছিল কিছু শর্তের কথাও। কিন্তু, পরে সেই ফর্ম নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে এলাকায় তৈরি হল চাপা উত্তেজনা। আর থানায় অভিযোগ জমা হওয়ার পর, যাঁকে ঘিরে এত অভিযোগ, তাঁর আর দেখা মিলছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি গিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভুয়ো ফর্ম বিলি করে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বাড়ি বাড়ি ৫ হাজার টাকা কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। টাকা না দিলে আবাসের সুবিধা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকি হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের মহেন্দ্রপুর এলাকার। অভিযুক্ত কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জন স্বর্ণকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেবার কথা বলে তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম দেন এবং ৫০০০ করে টাকাও দাবি করেন। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি না হলেও, পরে এলাকার একাধিক পরিবারের কাছ থেকে একই অঙ্কের টাকা নেওয়ার কথা সামনে আসে। এরপরই ফর্মটি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন স্থানীয়রা। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁরা জানতে পারেন তাঁদের দেওয়া ফর্মটি সরকারি আবাস যোজনার আসল ফর্ম নয়। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনাটি নিয়ে একাধিক উপভোক্তা হরিশচন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই পলাতক কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য। সমগ্র ঘটনায় তৃণমূল এবং কংগ্রেসকে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বলে কটাক্ষ বিজেপির। তাঁদের অভিযোগ, দুর্নীতির রাজনীতির সঙ্গে দুই দলই যুক্ত। বিজেপির দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে টাকা দিতে হলে, রাজ্যের পালাবদলের পর তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে অভিযোগের বিষয়ে সাফাই দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার প্রকৃত সত্যতা তদন্তের পরই সামনে আসবে। একইসঙ্গে অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টারও বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। গোটা ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ভুয়ো ফর্ম কোথা থেকে এল, সত্যিই টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, এখন সেই উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।
