দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ফের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি পেল বাংলাদেশ। প্রত্যাশা মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলেন ক্ষমতাসীন বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী তথা দলের সদ্যপ্রাক্তন নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমেদ তাঁকে ১৬৭ টি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন ফখরুল।
সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দুপুর দুটো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মোট ৩৫০ আসনের সংসদে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের সাংসদ মওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লা ভোটদানে বিরত থাকার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। ভোটের ফলাফলে মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ টি ভোট। সাংসদ হওয়ার কারণে ফখরুল নিজে ভোট দিতে পারলেও অলি আহমেদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।
এই নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জোটের সংসদে ২৪৮ টি আসন রয়েছে। ফলে, ফখরুলের জয় কার্যত ক্ষমতাসীন শিবিরের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও স্পষ্ট করল। তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে থাকাকালীন তাঁর মা প্রয়াত খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দলের নেতৃত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ফখরুল। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বুধবার মন্ত্রিসভা এবং দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। সাংবিধানিক প্রথা মেনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার আগে এই পদক্ষেপ নেন ফখরুল।
এর আগে শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সাময়িকভাবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। তবে, এবার নির্বাচন শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেয়ার জন্য ঐতিহাসিক নয়। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি ভোটাভুটি হল। সেবার বিএনপি সমর্থিত আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিল ৯২ ভোট।
তারপর, প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। সেই দীর্ঘ বিরতির পর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। এবং সেই ভোটেই জয়লাভ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর এই উত্থান আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।