নিউজ ডেস্ক: মাঝরাতে হঠাৎ করেই আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ আটকে গিয়েছিল এক পথচারীর। তেহরানের চেনা আকাশে এমন কিছু জ্বলজ্বল করছিল, যা সচরাচর চোখে পড়ে না। কোনো বিমানের মতো সোজা সরলরেখায় চলার বালাই নেই, আলোর গতিপথও অদ্ভুত। হাত কাঁপতে কাঁপতেই পকেট থেকে ফোনটা বের করে রেকর্ড বোতাম চেপেছিলেন তিনি। সেই কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই এখন তোলপাড় পুরো শহর।
দেখুন: https://x.com/NewsAlgebraIND/status/2101884066597626118?s=20
ভিডিওতে যে বস্তুটিকে ভেসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, সেটির গতিবিধি প্রচলিত কোনো আকাশযানের সাথে মিলছে না। থেমে থেমে আলো ছড়াচ্ছে, আবার চোখের পলকে বদলে ফেলছে দিক। নেটপাড়ায় ভিডিওটি আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল তর্কবিতর্ক। কেউ একে ভিনগ্রহের যান বলে চোখ বড় বড় করছেন, আবার বিজ্ঞানের যুক্তি খোঁজা মানুষেরা বলছেন কোনো বিশেষ ধরনের নজরদারি ড্রোন বা বায়ুমণ্ডলের আলোর প্রতিসরণ ছাড়া আর কিছুই নয় এটি।
তবে তর্কটা শুধু নয়, বা বস্তুটি কি সেটা জানার চেষ্টা নয়, শহরবাসীর চোখেমুখে একটা চাপা ভয়ের ছায়াও স্পষ্ট। কারণ বস্তুটি আসলে কি তা এখনও স্পষ্ট নয় তাদের কাছে। এমনিতে মধ্যপ্রাচ্যের বাতাসে এখন নানারকম সামরিক উত্তেজনা। আকাশে অচেনা কিছু দেখলেই মানুষ সবার আগে ভাবছে নতুন কোনো বিপদ আসছে না তো? কোনো হামলা বা গোপন নজরদারির মহড়া নয়তো? যুদ্ধ আর সংঘাতের আশঙ্কায় দিন কাটানো সাধারণ মানুষের ওপর এই সামান্য কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও বাড়তি চাপ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।
পুরনো দিনের মানুষেরা আবার মনে করছেন সেই সত্তরের দশকের কথা। ১৯৭৬ সালের এক রাতে ঠিক এভাবেই তেহরানের আকাশে অদ্ভুত আলো দেখে যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল, যা আজও বিশ্বজুড়ে রহস্যপ্রেমীদের কাছে এক অমীমাংসিত গল্প। একটি নতুন ভিডিও যেন আবারও সেই পুরনো কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন প্রবীণদের ও রহস্য প্রেমীদের।
আসলে জিনিসটা ঠিক কী ছিল কোনো অপেশাদার চালকের ড্রোন, রকেটের ধ্বংসাবশেষ, নাকি অন্য কিছু? সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের তরফ থেকে পরিষ্কার কোনো কথা বলা হয়নি। কিন্তু রাতের অন্ধকারে মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই আলোটা যে হাজারো মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পেরেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন মানুষের মনে শুধু একটাই ভয়, কোন রহস্যময়ই যান নাকি আবার কোন যুদ্ধের প্রস্তুতি?