নিউজ ডেস্ক: নেপালে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, বাড়ি ফিরতেই পুলিশের হানা। নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা মোহাম্মদ সাঈদ। চোপড়া থানার পুলিশের এই অভিযানে উত্তর দিনাজপুরের সোনাপুর এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিডন্যাপিং, জমি দখলসহ একাধিক মামলায় সাঈদের নাম রয়েছে।
মোহাম্মদ সাঈদ সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী। অভিযোগ, একাধিক মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকে তিনি এলাকা ছেড়ে নেপালে চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আত্মগোপন করেছিলেন বলে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে, সম্প্রতি তাঁর নিজের বাড়িতে ফেরার খবর পায় চোপড়া থানার পুলিশ। খবর পেয়েই অভিযানে নামে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়া থানার আইসির নেতৃত্বে একটি দল সোনাপুরে সাঈদের বাড়িতে অভিযান চালায়। আচমকা পুলিশের হানায় সেখান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে খবর।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, সাঈদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা। বিশেষকরে, অপহরণ বা কিডন্যাপিং এবং জমি দখলের অভিযোগের নেপথ্যে ঠিক কি ঘটনা রয়েছে, সেই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই মামলাগুলির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কোনও নতুন তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সেদিকেও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সাঈদের গ্রেফতারির পর স্বাভাবিকভাবে এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা। তিনি শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি। পুলিশের তদন্তের পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে আগে থেকে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। মামলার পর তাঁর নেপালে চলে যাওয়া এবং সম্প্রতি ফের নিজের বাড়িতে ফিরে আসার বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। কি কারনে তিনি নেপালে গিয়েছিলেন এবং এতদিন সেখানে কোথায় ছিলেন, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে আগামীদিনে আরও কোনও নাম সামনে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। একইসঙ্গে, সাঈদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির প্রকৃত ঘটনা কতটা কি, তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোন তথ্য মিলে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।