কলকাতার ধর্মতলায় নিট (NEET) দুর্নীতির প্রতিবাদে সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন চলাকালীন ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। লালবাজার এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ধৃতদের চিহ্নিত করা হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনও ছাত্র নন।
ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ প্রথম দফায় ১১ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে জোড়াসাঁকোর ভবানী দত্ত লেনের বাসিন্দা ইরফান খুরশিদ (৩০), আর্শাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০), মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬), মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), মহসিন খান (৩০) এবং দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮)। এ ছাড়া কংগ্রেস সমর্থক হিসেবে পরিচিত খালিদ রেজা ওরফে রিংকু (৪৭) এবং জমির আহমেদ ওরফে মিঙ্কু (৪২)-কেও ধরা হয়েছে।
অভিযুক্ত মহম্মদ আজাদ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পালানোর সময় আন্দালের কাছে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলরের স্বামীর সূত্রে তৃণমূল যোগের অভিযোগ উঠেছে। আজাদের সঙ্গেই ধরা পড়ে মহম্মদ আফরোজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যার সাথে প্রাক্তন শাসকদলের নেতাদের যোগাযোগের দাবি মিলেছে।
পরবর্তীকালে শনিবার গভীর রাতে লালবাজারের অ্যান্টি রাউডি স্কোয়াড (ARS) বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলো কড়েয়ার বাসিন্দা শাহবাজ খান (৩৪), 'তৌহিদি জনতা' সংগঠনের নেতা রাজাবাগানের বাসিন্দা শেখ মহম্মদ সলমন হোসেন (২৯) এবং ভাঙড়ের বাসিন্দা মহম্মদ জহিরুদ্দিন মাল।
লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই হামলার ঘটনায় মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে আপাতত এই ১৪ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ৫৬ জনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।




