মিলেছিল খানিকটা স্বস্তি, বেশ কিছুটা কমেছিল বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। আবারো কি দাম বাড়তে চলেছে গ্যাস সিলিন্ডারের? যদিও এই নিয়ে জোরচর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।অনেকেই মনে করেন আন্তর্জাতিক বাজারে দর ওঠা নামার কারণে আবারো দাম বাড়তে পারে গ্যাস সিলিন্ডারের, যা নিয়ে আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ।
আগস্ট মাসের শুরুতেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২০০ টাকা কমেছিল। সেই খবরে বেশ স্বস্তি পেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে সেই স্বস্তি হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়তে পারে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। সূত্রের খবর, আগামী দিনে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ফের বাড়তে পারে। জানা গিয়েছে, এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কথা চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রস্তাব আপাতত বিবেচনাধীন রয়েছে। সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা না করলেও এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
জানা গিয়েছে, কেন্দ্র এলপিজির উপর প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ১.২৯ টাকা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর প্রতি কিউবিক মিটারে ১.৪৩ টাকা শুল্ক বসাতে পারে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে, ১৪.২ কেজির গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা। নতুন শুল্ক লাগু হলে সেই দাম প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহের উপর তার প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সঞ্চয় কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি এই অতিরিক্ত শুল্ক থেকে বছরে প্রায় ১৩,২০০ কোটি টাকা আয় হবে। আর এই বাড়তি দাম পড়তে চলেছে আমজনতার ঘাড়ে।
দিনের পর দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। বেশ কয়েকদিন আগে দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাসের। ফির যদি রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ে তবে অপেক্ষাকৃত ভাবে বাড়বে অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও।
আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি সঞ্চয় কর্মসূচিতে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর একটি বড় অংশ ব্যয় হবে নতুন জ্বালানি সঞ্চয় পরিকাঠামো নির্মাণে এবং বাকি অর্থ জ্বালানি রিজার্ভ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, ভারতের শক্তি সঞ্চয় কর্মসূচি শুধু অপরিশোধিত তেলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে এলপিজি ও এলএনজির মত জ্বালানিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এটি একটি বড় পদক্ষেপ হলেও, আপাতত বিষয়টি প্রস্তাবনার স্তরেই রয়েছে। তবে এমন খবরে রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে মধ্যবিত্তের মধ্যে। আবারো যদি গ্যাসের দাম বাড়ে তবে কোপ এসে পড়বে সাধারণ মানুষের উপর।