সিকিমের নামচিতে একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে মিথেন গ্যাস লিকের ফলে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর আশঙ্কা পাহাড়ি অঞ্চলে টানেল নির্মাণের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনরায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে টানেল তৈরি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও, উন্নয়নের এই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের জীবন সুরক্ষা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় সংলগ্ন সিকিম ও দার্জিলিং অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও ফলিত ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইন্দ্রজিৎ রায়চৌধুরী জানান, এই অঞ্চলের নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালার শিলাস্তর মূলত কাদা পাথর ও বেলে পাথর দিয়ে গঠিত, যা ভঙ্গুর এবং সামান্য বৃষ্টিপাতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে যেকোনো সুড়ঙ্গ প্রকল্পের আগে দক্ষ জিওলজিস্টের পরামর্শে ভূমির ঢাল, শিলার ধারণক্ষমতা ও ভূগর্ভস্থ জলপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা আবশ্যক।
সুড়ঙ্গের অভ্যন্তরে উদ্ধারকাজ ও সুরক্ষার ক্ষেত্রেও কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট। নামচির ঘটনায় মিথেন গ্যাসের উৎস নির্দিষ্ট না হলেও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার বা প্রাকৃতিক শিলাস্তরের ফাঁকে সঞ্চিত গ্যাস থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একটি মানসম্পন্ন টানেল প্রকল্পে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি বাধ্যতামূলক থাকা উচিত--১)বিষাক্ত গ্যাস শনাক্তকরণ সেন্সর এবং সার্বক্ষণিক অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা। ২)পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, ইমার্জেন্সি এক্সিট, রেসকিউ চেম্বার ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ৩)শিলা ধসের ঝুঁকি পরিমাপক আধুনিক ট্র্যাকিং সেন্সর।৪)ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহার এবং নিয়মিত নিরাপত্তা ড্রিল।
চা-বাগান অঞ্চল থেকে আসা বহু শ্রমিকের আধুনিক সেফটি প্রোটোকল সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা থাকে না, তাই তাঁদের সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়ি এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের বিকাশে টানেল অপরিহার্য হলেও, কঠোর নিরাপত্তা বিধি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে এমন জীবনহানি বারবার ফিরে আসবে।