তামিলনাড়ু,অঙ্কন দাস: বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর 'চেঙ্গলপট্টু' জেলার কোভালামে 'তাজ ফিশারম্যানস কোভ' হোটেলে অনুষ্ঠিত হল 'সাউদার্ন জোনাল কাউন্সিল'-র ৩১তম বৈঠক। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সাউদার্ন জোনাল কাউন্সিলের অন্তর্গত রাজ্যগুলি হল অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানা। এছাড়াও, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি যথা; পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষাদ্বীপও অন্তর্গত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এই রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম- ডি কে শিবকুমার, চন্দ্রবাবু নাইডু, ভি ডি সতীশন এবং রেবন্ত রেড্ডি।
'স্টেটস রিঅর্গানাইজেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৬'-র; ১৫ থেকে ২২ নম্বর ধারার অধীনে, সাউদার্ন জোনাল কাউন্সিল-সহ মোট পাঁচটি জোনাল কাউন্সিল গঠন করা হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, অমিত শাহ হলেন সাউদার্ন জোনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়(থালাপতি) এর ভাইস-চেয়ারম্যান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে,এই সদস্য রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের 'আন্তঃ-রাজ্য পরিষদ সচিবালয়' এই বৈঠকের আয়োজন করেছিল। এতে আয়োজক রাজ্যের ভূমিকা পালন করেছিল তামিলনাড়ু সরকার। বৈঠকে স্থির হয় দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মুখ্যমন্ত্রী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর ও প্রশাসকদের পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য থেকে দুজন করে প্রবীণ মন্ত্রীও অংশ নেবেন। এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে, এই বৈঠকে রাজ্য সরকারগুলোর মুখ্য সচিব বা উপদেষ্টা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 'সমবায়মূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো'র আদলে সমগ্র দেশের জন্য 'টিম ভারত'র ধারণার প্রস্তাব দিয়েছেন। জোনাল কাউন্সিলগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে জোনাল কাউন্সিলের বৈঠকগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার একটি শক্তিশালী মঞ্চ চান। এক্ষেত্রে জোনাল কাউন্সিলগুলোর ভূমিকা মূলত পরামর্শদাতার। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই কাউন্সিলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সমস্ত রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় তথা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সহযোগিতায়, ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ বছরে বিভিন্ন জোনাল কাউন্সিল ও তাদের স্থায়ী কমিটিগুলোর মোট ৬৯টি বৈঠক করেছে।'
এই পরিষদগুলিতে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য 'ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট' (FTSC) গঠন ও কার্যকর করা হবে। এছাড়াও এই বৈঠকে আলোচনা করা হয় শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় গুলি। এই বৈঠকে আঞ্চলিক স্তরে সাধারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও এখানে আলোচন হয়। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন সংক্রান্ত, জল বণ্টন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ), অসামরিক বিমান চলাচল ইত্যাদি এছাড়াও এই বৈঠকে অন্যান্য নানাবিধ প্রসঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।