নিউজ ডেস্ক : ঝড়ের রাতে নীলচক্রের শিখরে জ্বলন্ত শিখা,পুরীর সিংহদ্বারে ভক্তদের বিস্ময়। উপকূলীয় শহরের আকাশ ভেঙে নামা শ্রাবণের মতো অঝোর ধারা, সঙ্গে বাতাসের তীব্র সাঁসাঁ আওয়াজ। রাজপথ ছাপিয়ে জল বইছে, আর সিংহদ্বারের সামনে ভেজা পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত মানুষের চোখ নিবদ্ধ মন্দিরের একেবারে শীর্ষদেশে। এত জল, এত হাওয়ার দাপট তবুও শ্রীমন্দিরের চূড়ায় ধিকিধিকি নয়, রীতিমতো পূর্ণ তেজে প্রজ্জ্বলিত একাদশীর মহাদ্বীপ। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই অগ্নিশিখার টিকে থাকার দৃশ্য উপস্থিত প্রতিটি মানুষের মনে বিস্ময় ও ভক্তির এক অদ্ভুত শিহরণ জাগিয়ে তুলেছে।
সামনে আসা প্রত্যক্ষদর্শীদের সেই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে, মুষলধারে বৃষ্টির মোটা ফোঁটা যখন চারপাশ ঝাপসা করে দিচ্ছে, ঠিক তখনই প্রায় ২১৫ ফুট উঁচুতে কলস ও চক্রের পাশে স্ফুলিঙ্গের মতো দ্যুতি ছড়াচ্ছে পবিত্র প্রদীপ। সাধারণ অভিজ্ঞতায় যেখানে এমন দুর্যোগে সাধারণ আগুন চোখের নিমেষে নিভে যাওয়ার কথা, সেখানে আকাশের এত কাছাকাছি উন্মুক্ত স্থানে আগুনের এমন স্থির অবস্থান সাধারণ মানুষকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। ভিড়ের মধ্য থেকেই একের পর এক কণ্ঠ বলে ওঠেন "জয় জগন্নাথ"! অনেকে বৃষ্টির মধ্যেই হাত তুলে প্রণাম করতে থাকেন, কারও চোখে আনন্দের জল।
শ্রীক্ষেত্রের ঐতিহ্য অনুসারে, একাদশী তিথির সান্ধ্য আরতির পর চুনরা সেবায়েতরা দড়ি ও দেওয়ালের খাঁজ বেয়ে মন্দিরের চূড়ায় ওঠেন। সেখানে নীলচক্রের সন্নিকটে স্থাপন করা হয় বৃহৎ মৃৎপাত্রে সাজানো এই মহাদ্বীপ। এতে খাঁটি ঘিয়ের বিপুল জোগান এবং সুতির মোটা সলতের বিশেষ বিন্যাস থাকে। ভক্তদের চিরাচরিত বিশ্বাস, একাদশীর এই দ্বীপের আলো দর্শন করা পরম ভাগ্যের লক্ষণ। দুর্যোগপূর্ণ রাতে সেই শিখা অবিচল থাকায় সেই বিশ্বাসের গভীরতা যেন আরও বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে।
পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের একাংশের মতে, শিখরদেশের স্থাপত্যশৈলী, বাতাসের ঘূর্ণিপ্রবাহের চরিত্র এবং ঘৃতাহুতির বিশেষ পাত্রের গভীরতা আগুনকে সরাসরি জলপ্রবাহ থেকে কিছুটা হলেও আড়াল দেয়। কিন্তু বাস্তব যুক্তির হিসাব যাই বলুক না কেন, বৈরী প্রকৃতির বুকে একা দাঁড়িয়ে থাকা সেই উজ্জ্বল শিখা শ্রীক্ষেত্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে একটাই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বাস ও সমর্পণের শক্তি বেশি বলীয়ান। আর এই ভিডিও সমাজের মাধ্যমে পোস্ট হতে ভালোবাসার ভরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। আবার কেউ কেউ কমেন্টে তাদের আবেগ প্রকাশ করেছেন।
