একের পর এক তৃণমূল নেতার গ্ৰেপ্তারিতে উত্তপ্ত পুরুলিয়ার জেলা রাজনীতি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জী, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি সাদ্দাম আনসারীর পর এবার পুলিশের জালে যুবনেতা গৌরব সিং এবং সুজয় ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তুষার আবাস্তি। এই ধারাবাহিক গ্রেফতার ঘিরে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা।
সোমবার গভীর রাতে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ যুবনেতা গৌরব সিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তুষার আবাস্তিকে গ্রেপ্তাতা করে। মঙ্গলবার তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে জেলা পুলিশ দু'জনের জন্য দু-দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায়। কিন্তু বিচারক দুজনেরই এক দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বুধবার পুনরায় তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হবে।
এইদিন আদালত চত্বরে ভিড় জমান বহু বিজেপি নেতাকর্মীরা। পুরুলিয়া সদর থানা থেকে ধৃতদের আদালত চত্বরে নিয়ে আসতেই "চোর, চোর" স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ ভ্যান থেকে নামার সময় গৌরব সিং দাবি করেন, "এতদিন তৃণমূল করে যারা টাকা কমানোর কামালো, আর আমরা মিথ্যা কেস খাচ্ছি।" তার এই মন্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ইতিমধ্যেই পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জী এবং তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি সাদ্দাম আনসারী। দু-দিনের পুলিশি হেফাজতের পর মঙ্গলবার সুজয় ব্যানার্জিকে পুনরায় কোর্টে তোলা হলে বিচারক তাকে আরো চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সাদ্দাম আনসারীকে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় রঘুনাথপুর মহকুমা আদালত।
অল্প সময়ের মধ্যেই জেলার একাধিক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী দিনে এই গ্ৰেপ্তারির লিস্টে আরো কোন কোন নেতার নাম যুক্ত হয় সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ