নিউজ ডেস্ক: রাত তখন গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ, অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমের মধ্যে। হঠাৎ এই নীরবতা ভেঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অন্ধকারের মধ্যে অস্বাভাবিক শব্দে ঘুম ভাঙ্গে গ্রামবাসীদের। বাইরে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি বুঝতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় গোটা এলাকার পরিস্থিতি। প্রাণ বাঁচাতে ঘরবন্দী হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
সূত্রে খবর, বিজনীর উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যহাতির উপদ্রবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে রাতের নিস্তব্ধতা, অন্যদিকে বন্যহাতির আতঙ্ক। গত রাতে খাবারের সন্ধানে মানস জাতীয় উদ্যান থেকে বেরিয়ে আসা একটি বন্যহাতি বিজনীর ৩নং লক্ষীঝোরা গ্রামে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। গভীর রাতে লোকালয়ে হাতির প্রবেসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে।
দেখুন: https://www.facebook.com/share/r/1FBx2L79JJ/
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ১টার সময় গ্রামে প্রবেশ করা হাতিটি ধীরেন মন্ডল নামে এক ব্যক্তির দোকানঘর ভেঙে লন্ডভন্ড করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে দোকানের একাংশ ভেঙে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। হঠাৎ বন্যহাতির আগমনে রাতের বেলায় এলাকায় আতঙ্কময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাতির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই নিরাপত্তার কারণে ঘরের মধ্যেই অবস্থান করেন।
উল্লেখ্য, মানস জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত। খাবার ও জল খোঁজার তাগিদে প্রায়ই হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এর ফলে ফসল বাড়িঘর দোকানপাটের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, হাতির উপদ্রব রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকার ও বন বিভাগের কাছে বহুবার দাবি জানিয়ে এসেছেন। জঙ্গল লাগুয়া এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, আগাম সতর্ক করনের ব্যবস্থা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ এর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে, ঘন ঘন বন্য হাতির আগমনে এখন কেবল সম্পত্তির ক্ষতিই নয়, এলাকাবাসীর জীবন ও নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে লোকালয়ে আচমকা হাতির প্রবেশ আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা আবার সামনে এল। আপাতত রাত বাড়লেই আতঙ্কে প্রহর গুনছেন বিজনীর উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা।