দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: টিফিন বক্স সরাতে গিয়ে আচমকায় ঘটে গেল অঘটন। রান্নাঘরে প্রতিদিনের মতোই চলছিল সংসারের কাজ। কিন্তু, একটি সাধারণ জিনিসের নিচে যে এমন বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে তা ঘুনাক্ষরেও টের পাননি গৃহবধূ। বক্সে হাত দিতে হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা পরিবারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড়ের দামজ্বালি পাড়ায় ঘটেছে এই ঘটনা। কালাচ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলেন এক বধু। বর্তমানে আশাঙ্কাজনক অবস্থায় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হাসপাতালের তরফে সাপে কামড় দেওয়া প্রতিষেধক এভিএস পর্যাপ্ত পরিমাণে দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ওই বধুকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,ওই এলাকার বাসিন্দা আরফাত আলি মোল্লা দীনমজুরের কাজ করেন।কাজে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর স্ত্রী পারুলি খাতুন টিফিন তৈরী করছিলেন। টিফিন তৈরী করে বক্সে ভরার জন্য রান্নাঘরের মধ্যে টিফিন বক্স আনছিলেন। কিন্তু, বক্সটি সরাতে গিয়েই বিপদ ঘটে। সেই সময় টিফিন বক্সের নীচে একটি বিশালাকৃতির কালাচ সাপ ঘাপটি মেরে বসেছিল। অন্ধকারে থাকার কারণে সে সেটি দেখতে পাইনি। টিফিনবক্সে হাত দিতেই ওই বধুর হাতে কামড় দেয় কালাচ। চিৎকার শুরু করেন বধু। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি ক্ষতস্থানে একটি বাঁধন দেয়।
পরিবারের দাবি, সাপটিকে মেরে টুকরো টুকরো করে কৌটোয় ভরেন তাঁরা। যাতে হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাপটিকে সনাক্ত করতে সময় নষ্ট না হয়। এরপর সময় নষ্ট না করে দ্রুততার সাথে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি-ভেনম সিরাম দেওয়া হয়েছে।
আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। তবে, সাপের বিষের প্রভাবের কারণে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির রান্নাঘর ঘরের কোন এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা জিনিসপত্র উঠানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রা।