রায়গঞ্জ, নিউজ ডেস্ক: সন্ধ্যার সময় আচমকা ভেসে আসে এক কিশোরীর আতঙ্কিত চিৎকার। বাড়িতে তখন কার্যত কেউ ছিলেন না। কয়েক মুহূর্ত আগে যেই বাড়িটি ছিল নিস্তব্ধ, সেখানে হঠাৎ শুরু হল হৈচৈ। কিশোরীর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই তাঁদের চোখে পড়ে দুই যুবক। এরপর যা ঘটে, তাতে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ শহরে একটি বাড়িতে ঢোকে দুই যুবক। অভিযোগ, সেই সময় বাড়িতে একাই ছিল ১৬ বছরের এক নাবালিকা। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে হেনস্থার চেষ্টার অভিযোগ উঠে। পরিস্থিতি আরও আতঙ্কিত হয়ে ওঠে যখন দুই যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পান ওই কিশোরী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রায়গঞ্জ শহরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে কিশোরী। তাঁর চিৎকার শুনে এলাকার বাসিন্দারা ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে ওই ২ যুবক। তবে, শেষ পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যায় তাঁরা।
অভিযোগ, এরপর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দুজনকে মারধর করেন। পরে খবর দেওয়া হয় রায়গঞ্জ থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই যুবকদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আলম মহম্মদ (৩০) ও নুর আলম (২৮)। বাড়ি রায়গঞ্জ শহর এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে এর আগেও দুষ্কৃতিমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। ফলে, এই ঘটনার পেছনে আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর রায়গঞ্জ শহরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। নাবালিকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা সহ অস্ত্র আইন ও পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে। এদিন, ধৃতদের জেলা আদালতের বিশেষ কোর্টে তোলা হলে বিচারক দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশি হেফাজত নিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।