শ্রীরামপুর, রেশমি ব্যানার্জি: রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জেলাতে হয়ে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল হুগলি জেলা প্রশাসন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শ্রীরামপুরের একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে বৃহস্পতিবার অভিযান চালাল শ্রীরামপুর থানার পুলিশ ও দমকল বিভাগের আধিকারিকরা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানির পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
শহরের ছোট বড় বেশ কয়েকটি দোকান, হোটেল ও গেস্ট হাউসে গিয়ে ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ও অন্যান্য গাইডলাইন মানা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। সমস্ত হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। যাদের লাইসেন্স রয়েছে সেই লাইসেন্স পুনরায় পরীক্ষা করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। আগামী দিনে এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই জন্যই প্রশাসন ও পুলিশের এই তৎপরতা।
এ বিষয়ে শ্রীরামপুর ফায়ার স্টেশনের ওসি নিমাই ব্যানার্জী বলেন, হোটেল সমস্ত নিয়ম মেনে চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। যাদের ফায়ার লাইসেন্স নেই প্রয়োজনে তাদের হোটেলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে। কোনও কারনে আগুন লাগলে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে সেই কারণেই তৎপরতার সঙ্গে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখছেন তারা।
প্রসঙ্গত , কয়েকদিন আগেই তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরপর এই দুই ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই শ্রীরামপুর শহরের হোটেল ও লজ গুলিতে নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে।
রাজ্যে পর পর হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছে প্রশাসনকে। তাই কোনও জায়গাতেই যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই কারণেই তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। অভিযান চালানো হয় হুগলি জেলার শ্রীরামপুরেও। এই অভিযানে পুলিশের বার্তা স্পষ্ট, লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তায় গাফিলতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স না থাকলে হোটেলে ঝুলতে পারে তালা। তাই নিয়ম মেনে চালাতে হবে হোটেল।
প্রশাসনের এই তৎপরতা রীতিমত চাপে ফেলছে হোটেল মালিকদের। যদিও শহরবাসীরা প্রশাসন ও পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।