ঝাড়গ্রাম, নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রামে তোলাবাজি চক্রের পর্দাফাঁস,এসিবি-র জালে পুলিশ কনস্টেবল ও ৩ দালাল। উদ্ধার নগদ লক্ষাধিক টাকা। ঝাড়গ্রামে পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্র্যাক্টর থেকে নিয়মিত তোলা আদায়ের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবল এবং তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃতদের কাছ থেকে তোলাবাজির নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি রোধে তৎপর দুর্নীতি দমন ব্যুরো। সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম এলাকায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক গাড়ি ও ট্র্যাক্টর থেকে পুলিশের নামে জোর করে টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ে তদন্তকারীদের কাছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি বিশেষ দল তৈরি করে ফাঁদ পাতা হয়। অভিযান চলাকালীন এক ট্রাক মালিকের থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময়েই হাতেনাতে তিন দালালকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করতেই উঠে আসে স্থানীয় থানার এক কনস্টেবলের নাম।
জেরায় এক দালাল স্বীকার করে, গাড়িগুলি থেকে জোর করে তোলা টাকা সরাসরি ওই পুলিশকর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হতো। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গাড়ির চালক ও মালিকদের থেকে আদায় করা প্রায় ৫ লক্ষ টাকা তাঁর কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
তদন্তে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে দালালের ফোনে ওই অভিযুক্ত কনস্টেবলের মোবাইল নম্বরটি ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’ নামে সেভ করা ছিল। ঘটনার যোগসূত্র স্পষ্ট হতেই অভিযুক্ত কনস্টেবলকেও হেফাজতে নেয় এসিবি। উদ্ধার করা হয় তোলাবাজির বিপুল পরিমাণ অর্থ।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ঝাড়গ্রামের জামবনী ব্লকের এক সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল দুর্নীতি দমন শাখা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ পুলিশকর্মীর এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বেআইনি চক্রের জাল আর কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর পিছনে অন্য কোনও প্রভাবশালীর হাত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।