নিউজ ডেস্ক: এ যেন এক প্রকার সিনেমার প্লট। ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন মানুষকে বোকা বানালো বাংলাদেশি বাসিন্দা। কপালে সিঁদুর, পরনে গেরুয়া বসন। ১৫ বছর ধরে ভুয়ো সাধু সেজে ভারতে ঘাঁটি গাড়া বাংলাদেশি গ্রেফতার তুফানগঞ্জে। চায়ের দোকানে বসেছিল এক অচেনা সাধু। কপালে লাল সিঁদুরের তিলক, পরনে গেরুয়া বস্ত্র। কিন্তু সেই বেশভূষার আড়ালেই যে লুকিয়ে রয়েছে ভিনদেশের এক অনুপ্রবেশকারী, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের কড়া নজরদারিতেই পর্দাফাঁস হলো আব্দুল খায়ের চৌধুরীর। টানা ১৫ বছর ধরে হিন্দু সাধু সেজে ভারত চষে বেড়ানো পঞ্চাশোর্ধ্ব এই বাংলাদেশি নাগরিককে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিল কোচবিহারের জনতা।
ঘটনাটি তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ভানুকুমারী এলাকার। সেখানকার ভোলানাথ মোড়ের একটি দোকানে চা খেতে বসেছিলেন ওই ব্যক্তি। এলাকায় একেবারেই নতুন মুখ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারের খটকা লাগে। পরিচয় জানতে চেয়ে দু-চারটি প্রশ্ন করতেই থতমত খেয়ে যান তিনি, কথায় ধরা পড়ে বিস্তর অসঙ্গতি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সময় নষ্ট না করে স্থানীয়রা তাঁকে আটকে বক্সিরহাট থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এরপর থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই চক্ষুচড়ক গাছ তদন্তকারীদের।
জেরার মুখে ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করে নেন, তাঁর আসল নাম আব্দুল খায়ের চৌধুরী । বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাটে। আজ থেকে প্রায় দেড় দশক আগে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত পার হয়ে বেআইনিভাবে ভারতে ঢোকেন তিনি। পরিচয় ও ধর্ম গোপন করতে নিজের নাম দেন ‘রতন’ এবং ধারণ করেন সাধুর ছদ্মবেশ।
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ এই সময়ে সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন মন্দিরে রাত কাটাতেন তিনি। কবিরাজি, তুকতাকের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে দীক্ষা দিয়ে তৈরি করেছিলেন একাধিক শিষ্যও। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের নানা প্রান্ত ঘুরে অবশেষে আস্তানা গেড়েছিলেন বক্সিরহাটে।
ধৃতের বিরুদ্ধে বিদেশি আইনে মামলা রুজু করে শুক্রবার তুফানগঞ্জ মহকুমা দায়রা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে দেড় দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে একজন ভিনদেশি নাগরিক অবাধে ঘুরে বেড়ালেন, তা নিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় উঠছে প্রশ্ন।