নিউজ ডেস্ক: জীবিকার তাগিদে অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রাই কাল হলো শতাধিক মানুষের। জিবুতি থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের উদ্দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে লোহিত সাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবির শিকার হয়েছেন আফ্রিকান অভিবাসীরা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ৮ ও ৯ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতের অন্ধকারে জিবুতির উপকূলীয় শহর ওবক-এর উত্তরে গুহেরে এলাকার কাছে মর্মান্তিক এই বিপর্যয় ঘটে।
উদ্ধারকর্মীদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শিশু ও নারীসহ মোট ১০৯ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫টি নিষ্পাপ শিশু। বেঁচে ফেরা অভিবাসীদের থেকে জানা গেছে, উত্তাল সাগরে নৌকাটি উল্টে গেলে নিমেষেই তলিয়ে যান যাত্রীরা। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১১৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। সৌভাগ্যবশত আশি জনেরও বেশি যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাঁদের সকলেই ইথিওপিয়ার নাগরিক।
জিবুতিতে আইওএম-এর মিশন প্রধান আলেকজান্দ্রে কয়স্যাক গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, উন্নত জীবনের সন্ধানে বেরিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো চরম হৃদয়বিদারক। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, জীবিকার অন্বেষণে এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীদের কতটা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।
দারিদ্র্য ও সংঘাতের মুখে থাকা ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর ভাগ্য বদলাতে জিবুতি হয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালী পাড়ি দেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে সংঘাতময় ইয়েমেন পার হয়ে উপসাগরীয় সম্পদশালী দেশগুলোতে পৌঁছানো। তবে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতাও তাঁদের এই মরিয়া যাত্রাকে থামাতে পারছে না।
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনের অভ্যন্তরে মানবিক পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে যাচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক ব্রিফিংয়ে মানবিক বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মোহাম্মদ ইয়াহিয়া সতর্ক করে জানান, গত আগস্টের শুরু থেকে দেশটিতে নতুন করে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এত বড় মাত্রার বাস্তুচ্যুতি আর দেখা যায়নি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত। জমানো সঞ্চয় ও জীবিকা হারিয়ে লাখ লাখ পরিবার এখন নিরূপায়। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল যে, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় চার হাজার ইয়েমেনি উল্টো পথ ধরে বাব এল-মান্দেব প্রণালী পেরিয়ে জিবুতি ও সোমালিয়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
