নিউজ ডেস্ক: হাতে মাত্র কয়েক দিন, তার পরেই শুরু বাঙালির প্রাণের উৎসব। এবার দুর্গাপুজোর আগে শিলিগুড়িতে পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শহরের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নামে লাগানো পোস্টারে হিন্দুদের কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। পোস্টারে লেখা রয়েছে ‘বিরিয়ানি খান হিন্দুর হোটেল থেকে’, কোনওটিতে আবার লেখা, ‘মাংস কিনুন হিন্দুর দোকান থেকে ’। এই পোস্টারগুলি দেখা গিয়েছে
পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের বাড়ির সামনের দেওয়ালে।
শুধু তাই নয়, শঙ্করদের পাড়ায় রয়েছে তরুণতীর্থ ক্লাব। ওই ক্লাবের পুজো ময়দানেও পড়েছে একই পোস্টার। এই পোস্টারগুলিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ির নেতা অভিষেক দাসের দাবি, হিন্দুদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নেশামুক্ত সমাজ গড়ার কথাও প্রচারের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই প্রচার নিয়ে আপত্তি উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সমালোচকদের বক্তব্য, খাবার বা দোকান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মকে সামনে রেখে এমন আবেদন সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য এই পোস্টার নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, 'এই ধরনের প্রচার ধর্মীয় বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেবও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শহরে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, বাড়ির সামনের দেওয়ালে পোস্টার লাগানো হলেও বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। এই প্রচার নিয়ে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষও। তাঁদের মতে, বাঙালি হিসেবে কখনও খাবার কেনার সময় বা বিরিয়ানি খেতে গিয়ে কারিগর কোন ধর্মের, সেই প্রশ্ন তোলা উঠিৎ নয়।