পাসপোর্ট কিংবা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই গত সাত মাস ধরে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে অবাধে ঘুরে বেড়ালেন এক মার্কিন নাগরিক! অবশেষে উত্তরপ্রদেশের ভারত-নেপাল সীমান্তের মাইনিহা এলাকা থেকে জর্ডন ব্রাউন (৩৬) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)। নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালীন ধরা পড়েন তিনি।
প্রাথমিক জেরায় উঠে এসেছে এক রোমাঞ্চকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা জর্ডন নিজেকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন আধিকারিক বলে দাবি করেছেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, পর্যটক ভিসা নিয়ে তিনি প্রথমে থাইল্যান্ডে যান এবং সেখানেই তাঁর পাসপোর্টটি হারিয়ে যায়। তবে নথিপত্র হারানোর পরেও তাঁর দৌড় থামেনি। থাইল্যান্ড থেকে জলপথে শ্রীলঙ্কা হয়ে গত বছরের ২ নভেম্বর তিনি ভারতের গোয়ায় এসে পৌঁছান। এরপর গোয়া ও বেঙ্গালুরুসহ দেশের একাধিক শহরে দিব্যি ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত মার্কিন নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় ৩২ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও, পাসপোর্ট বা ভিসার মতো কোনো বৈধ পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। জেরার মুখে তিনি বারবার নিজের বয়ান বদল করছেন, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাটি চলতি বছরের মার্চ মাসে দমদম বিমানবন্দর থেকে কুখ্যাত মার্কিন 'ভাড়াটে' সৈনিক ম্যাথু ভ্যানডাইকের গ্রেপ্তারের স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে। ম্যাথুর বিরুদ্ধে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গড়ার ষড়যন্ত্র এবং আমেরিকার ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি তিহাড় জেলে বন্দি।
স্বাভাবিকভাবেই, জর্ডনের এই গ্রেপ্তারির পর দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কোনো বৈধ নথি ছাড়া একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে দেশের জলসীমা পেরিয়ে দিনের পর দিন ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ালেন, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।