দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: কয়েক মাস আগেও যাদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল একেবারে বিপরীত মেরুতে, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় তাদেরই দেখা গেল একই দিকে। দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের পর ভাঙ্গড়-২ পঞ্চায়েত সমিতিকে ঘিরে সামনে এল নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। তবে, এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব আগামী দিনে ভাঙ্গড়ের পঞ্চায়েত রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক অশান্তির পর অবশেষে ভাঙড়-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সম্পন্ন করল তৃণমূল কংগ্রেস ও ISF। এদিন দুই দলের সদস্যদের যৌথ সমর্থনে এই অনাস্থা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে, দীর্ঘ দিন ধরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়নে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট ৩০ টি আসন ছিল। সমিতির মোট ৩০ জন সদস্যের মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ২৯। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের ১৮ জন ও ISF-এর ৪ জন সদস্যের সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ, দুই দলের সদস্যদের সম্মিলিত অবস্থানেই আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ভাঙ্গড়ের রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও ISF-র মধ্যে একাধিক সংঘরটির ঘটনা সামনে এসেছিল। এই রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এবার একই পঞ্চায়েত সমিতিতে আরাবুলের বিরুদ্ধে দুই দলের সদস্যদের একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেল। এর আগে অনাস্থা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। পঞ্চায়েত সমিতিতে উপস্থিত হওয়ার সময় তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছিল। ফলে, গোটা বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
তবে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভাঙ্গড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। আরাবুল ইসলামের নিজে ISF এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। এবং পরে সেই দল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, অনাস্থা প্রক্রিয়ার পর তৃণমূল সদস্যদের দাবি, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন, ভাঙ্গড় ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কি হয় এবং নতুন করে নেতৃত্বে সমীকরণ কিভাবে তৈরি হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।