যারা সাধারণ রাজনীতির খবর রাখেন, তারা তাকে মন্তেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে চেনেন। কেউ চেনেন তৃণমূল কংগ্রেস জমানার গ্রন্থাগার মন্ত্রী হিসেবে। আর যারা আরেকটু এগিয়ে থাকা--সেইসব লোকেরা চেনেন একজন প্রাক্তন 'ক্যাবিনেট মিনিস্টার' রূপে। তিনি--সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
সাম্প্রতিক সময়ে দমদম বিমানবন্দরে মসজিদ অপসারণ নিয়ে মুখ খুলে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। তিনি বলেছিলেন--"একলক্ষ মুসলমান বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বে। বাইরে থেকে লোক ঢোকাব।" সেই চেষ্টাই তিনি করেছিলেন, কিন্ত বিজেপি সরকারের কঠোর দমননীতির প্যাঁচে পড়ে পিছু হঠেছেন তিনি।
সেই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য জানতে Jazzbaat 24 Bangla-র প্রতিনিধি পৌঁছে যান তাঁর কাছে। কথায় কথায় উঠে আসে নানা বিস্ফোরক তথ্য! প্রতিনিধির প্রশ্নে তিনি সটান ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে সেই বিতর্কিত মন্তব্য অস্বীকার করেন। তিনি বলেন-- "আমার বক্তব্য কিছু মিডিয়া অপপ্রচার করছে। এটা আমি বলিনি।আমরা বলেছি অনুমতি দিলে ৭ নং গেটের সামনে নামাজ পড়া হবে।"
প্রাক্তন ক্যাবিনেট মিনিস্টারকে নামাজ পড়তে না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর দাবি "কেউ কেউ বিক্রি হয়ে গেছেন।সিদ্দিকুল্লা দালাল নয়; দেশপ্রেমিক।" এই সূত্রেই তিনি আরও সংযোজন করেন আমার 'শুভেন্দু'র প্রতি সম্মান আছে,দূর্বলতা আছে।"
তবে তিনি যে বিজেপির ওপর চরম ক্ষিপ্ত, সেটা তিনি তাঁর কথাতেই বুঝিয়ে দেন--"পুলিশ দিয়ে রুটমার্চ করাচ্ছে; জলকামান আনতে হল!" তাঁর আরও সংযোজন আমরা পুলিশ দেখে ভয় পাইনা--আমরা মুসলমান। আমরা শান্ত,ভদ্র,সংযত। যারা(পড়ুন,বিজেপি) রাস্তায় ঝগড়া করে, তারা ভয় খাচ্ছে।তাই এত ফোর্স আনাচ্ছে।"
কোথাও গিয়ে 'বেসুর' হয়ে বাজছেন সিদ্দিকুল্লা! তাঁর কথাতেই তা ধরা পড়েছে--"আমাকে খুন করার চক্রান্ত চলছে! বিষ খাওয়ানোর চক্রান্ত চলছে।"
এক সপ্তাহ আগের সেই ঝাঁঝ কোথাও গিয়ে মিইয়ে গেছে--'আমরা হিন্দুদের সম্মান করি' এই শব্দবন্ধে। সত্যিই তো? নাকি আরো অনেক ছলনাকারী মুসলমান নেতার মতোই এটাও তাঁর একটা মুখোশ --সেটার উত্তর দেবেন স্বয়ং 'প্রাক্তন ক্যাবিনেট মিনিস্টার।' তার কারন, তাঁকে হিংসা ছড়ানোর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান--"যে ছড়াচ্ছে তাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটান..."
অর্থাৎ, ভেতরে অবদমিত রাগ থেকে 'যে কোন পদক্ষেপ' তিনি নেন কিনা, নজর থাকবে সেইদিকেই।