নয়াদিল্লি: যুবক থেকে সাংবাদিক, এমনকি সাংসদও, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করলেন কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর তোপ, “মোদীর কাছে জ্ঞানেশ কুমার এত অপরিহার্য কেন যে তাঁকে রক্ষা করতে সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রী?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সরব হন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, যুবকদের মারধর করা হচ্ছে, সাংবাদিকদের উপর হামলা হচ্ছে, এমনকি সাংসদরাও পুলিশের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চলা বিতর্কে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান CJP প্রতিষ্ঠাতা।
বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল CJP। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, এর ফলে বহু যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি বাধা, আটক এবং বিক্ষোভকারীদের জমায়েত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ সংগঠনের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁরা মুক্তি পান। পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার যুক্তিও সামনে এসেছে।
সাংসদের অভিযোগেও বাড়ছে বিতর্ক
এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন CPI(M)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। তাঁর অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের কর্মীরা তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে একটি পুলিশি গাড়ির ভিতরে হেনস্থা করেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়বদ্ধতার দাবিও তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আটক করার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তিন সাংবাদিককে ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ আটক করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সরকার ও প্রশাসনের এই পদক্ষেপের জবাবদিহি হওয়া জরুরি। CJP-র তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে। ফলে দিল্লির এই বিক্ষোভ এখন আর শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; তা কেন্দ্রের ভূমিকা, পুলিশের ক্ষমতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
