কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কিছু সিদ্ধান্ত সময়ই নেয়, কিন্তু পুরনো অভিযোগের ফাইল যে একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না, তারই যেন ইঙ্গিত মিলল এবার। আরজিকর কাণ্ডের পর বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসা এক চিকিৎসককে ঘিরে ফের নড়ে চড়ে বসল প্রশাসন। দীর্ঘদিন আগের অভিযোগ, একাধিক তদন্ত এবং রিপোর্টের পর অবশেষে এল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আরজিকর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অভিক দে কে ঘিরে আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসে কথিত 'থ্রেট কালচার' থেকে শুরু করে তাঁর স্নাতকোত্তর এ ভর্তি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা। এবার সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল। সূত্রের খবর, এসএসকেএম হাসপাতালের স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অভিক দে-র নাম। অভিযোগ ছিল, বেআইনিভাবে সার্ভিস কোটার সুবিধা নিয়ে তিনি ২০২৪ সালে এসএসকেএম এর মাস্টার অফ সার্জারি বা এম এস কোর্সে ভর্তি হয়েছিল। নতুন তদন্তের পর সেই অভিযোগই আরও একবার সামনে আসে।
আরজিকর আন্দোলনের সময় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। এনআরএস মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ পীতবরণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত সেই কমিটি অভিকের সার্ভিস কোটা সংক্রান্ত বিষয়কে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছিল বলে জানা যায়। তবে, সেই সময় অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে, সরকার পরিবর্তনের পর আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা ফের বিষয়টি সামনে আনেন। এরপর গত আগস্টে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধানের নেতৃত্বে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেখানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ থেকে পাওয়া সার্ভিস কোটার তথ্যকে বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবার এসএসকেএমের এমএস পড়ুয়াদের তালিকা থেকে অভিক দে-র নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে, দীর্ঘদিন ধরে চলার বিতর্কে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। আরজিকর কাণ্ডের সময়ও অভিক দে কে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছিল। তিলোত্তমার মৃত্যুর পর সেমিনার রুমের ঘটনাস্থলের ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ক্রাইম সিনের ছবি প্রকাশের পর তাঁর উপস্থিতি নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার স্নাতকোত্তরে ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সেই পুরনো বিতর্ককে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল।
