স্পোর্টস ডেস্ক: ৫০ ওভারের ম্যাচে একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার বোলিং করতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি, আফগানিস্তান বনাম বাংলাদেশের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে। ১০ ওভারের জায়গায় ১১ ওভার বোলিং করেছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক সোহেল খান, এমনই অভিযোগ জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি লিখেছে বিসিবি।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ওমানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মধ্যে ৪ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে। আল আমিরাতে খেলা এই ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যাট করার সময় আফগান বোলার শাহ ফয়সাল রহিমি বল করার জন্য আম্পায়ারের কাছে নিজের ক্যাপ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে আফগান অধিনায়ক সোহেল খান নিজেই বল করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, ঠিক সেই সময় ম্যাচের অফিসিয়াল স্কোরারের নজর এড়িয়ে যায় বিষয়টি। তিনি শাহ ফয়সাল রহিমির নামেই ওভারটি নথিভুক্ত করেন। বাংলাদেশের অভিযোগ, তাঁদের নিজস্ব বিশ্লেষকের রেকর্ড থেকে জানা গিয়েছে, সোহেল খান আগেই ১০ ওভার বল করে ফেলেছিলেন।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হান্নান সরকার জানিয়েছেন, ‘আমরা অধিনায়কের রিপোর্টে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে লিখেছি এবং একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছি, যেখানে বিশেষভাবে ওই ১১ ওভারের উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু অধিনায়কের রিপোর্টের সাধারণ ফর্মে এই ধরনের তথ্য দেওয়ার জন্য আলাদা কোনও জায়গা নেই, তাই সিদ্ধান্তগুলোর তালিকার পরে একটি অতিরিক্ত নোট যোগ করা হয়েছে।’
ঘটনাটি যেভাবে নজরে এসেছে তার ব্যাখ্যা করে হান্নান বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের অধিনায়ক, যিনি তাঁদের দলের প্রধান স্ট্রাইক বোলারও, তৃতীয় ম্যাচে ১১ ওভার বোলিং করেছেন। আমাদের কাছে অফিশিয়াল স্কোরারের তথ্য ছিল না। তাই দলের ম্যানেজারের ফোনে ক্রিকইনফো-র স্কোরকার্ড দেখে আমরা হিসাব রাখছিলাম। আমাদের বিশ্লেষক দেখতে পান, সোহেল এরই মধ্যে ১০ ওভার বোলিং করে ফেলেছেন। বিষয়টি যখন আমাদের নজরে আসে, তখন তিনি আরেকটি ওভার শুরু করে দিয়েছেন। ওভারটি শেষ হওয়ার পরই আমরা আম্পায়ারদের বিষয়টি জানাই। তবে ততক্ষণে ওভারটি শেষ হয়ে গিয়েছিল।’
এই বিষয়ে অভিযোগের সঙ্গে ম্যাচ রেফারিকে ভিডিও ফুটেজও দিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের পর এলবিডব্লিউ ও ক্যাচের আবেদন নিয়ে আফগানিস্তানের কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গে তর্কও হয় বাংলাদেশের। তবে দুই দলের স্টাফরাই ম্যাচ শেষে হাত মিলিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সিরিজটি ২-২ সমতায় শেষ হয়েছে।




