নিউজ ডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স এর রাজকুমারী অমৃত কাউর ও নতুন ওপিডি ভবনের বাইরের চিত্র কোনো দুর্যোগের চেয়ে কম নয়। সকালের টিকিট পাওয়ার আশায় আগের রাত থেকেই ফুটপাতে ঠাঁই নিচ্ছেন শত শত রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা। ফুটপাতের ওপর প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে মানুষের এই সারি চলে গেছে। চার-চারটি সমান্তরাল লাইনে কেউ প্লাস্টিক পেতে বসে আছেন, কেউবা ক্লান্ত শরীরটা রাস্তার ডিভাইডারে এলিয়ে দিয়ে ভোরের অপেক্ষা করছেন।
লাইনের মধ্যে কেবল সক্ষম মানুষই নন, রয়েছেন গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধ, কোলের শিশু নিয়ে মা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা নিঃস্ব পরিবারগুলো। দেশের অন্যতম সেরা সরকারি হাসপাতালে একটু উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার আশাতেই তাদের এই চরম দুর্ভোগ মেনে নেওয়া। তবে এই চিত্র নতুন নয়, এটি প্রতিদিনের এক নির্মম বাস্তবতা। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো এই মানুষদের জন্য নেই কোনো মৌলিক সুবিধা, না আছে পানযোগ্য জল, না পর্যাপ্ত শৌচালয় কিংবা বসার কোনো সুনির্দিষ্ট শেড। আকাশের মুখ ভার হলে বা হঠাৎ বৃষ্টি নামলে এই অসুস্থ মানুষগুলো কোথায় আশ্রয় নেবেন, তার কোনো উত্তর কারও জানা নেই।
শুধু টিকিটের অপেক্ষাই নয়, এই দীর্ঘ সময় জুড়ে রোগী ও পরিজনদের নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার এবং বিশ্রামের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। অনেকের সঙ্গেই রয়েছেন একাধিক পরিজন। ফলে ফুটপাতের এই সাময়িক অপেক্ষার জায়গাই কার্যত রাতভোর অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিড় যত বাড়ে, পরিষেবার মান ততটাই চাপে পড়ে। রোগী যদি চিকিৎসকের মুখোমুখি হওয়ার আগেই রাস্তার ধুলোবালিতে সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং বিশৃঙ্খলা কেবল শারীরিক কষ্টই বাড়ায় না, রোগীদের মানসিক দিক থেকেও ভেঙে দেয়। একটি মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে, তা যেন এই দীর্ঘ সারির নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অবিলম্বে টোকেন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সুশৃঙ্খল অনলাইন স্লট বণ্টন এবং দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য উপযুক্ত শেড ও বিশ্রামাগারের স্থায়ী বন্দোবস্ত করা জরুরি।