মাঝ আকাশে আচমকা ৩০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বিমান। ১৪৫ জন যাত্রীকে নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI 2379 বিমানের সেই ঘটনায় এ বার তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে পাইলট-ইন-কমান্ড। সূত্রের খবর, পর পর দু’বার ডোপ টেস্ট করা হয়েছিল পাইলটদের। দু’টি পরীক্ষাতেই পাইলট-ইন-কমান্ডের রিপোর্টে গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র। বিমান সংস্থাকে পরিচালনাগত নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও কড়াভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৪ অগাস্ট। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় একের পর এক সতর্কবার্তা আসতে শুরু করে বিমানে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেম, দরজা এবং এলিভেটর নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অটোপাইলট। তার পরেই আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। ঘটনায় ২০ জন যাত্রী এবং চার জন কেবিন ক্রু সদস্য আহত হন। ফলে শুধু যান্ত্রিক গোলযোগই নয়, সেই সময় ককপিটে পাইলটদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তকারীদের কাছে ওই পাইলট দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই ডোপ টেস্টে গাঁজার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে সেই দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উড়ানের সময় তাঁর আচরণ নিয়েও তদন্ত চলছে। কেবিন ক্রু সদস্যদের অভিযোগ, পাইলটের আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির দাবি, পাইলটকে বার বার ককপিটের মেঝেতে বসতে এবং ধূমপানের চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল। পরে কেবিন ক্রু হস্তক্ষেপ করে তাঁকে থামান।
ঘটনার তদন্তে তাই এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন আধিকারিকেরা। বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির সঙ্গে পাইলটের শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কোনও যোগ ছিল কি না? উড়ানের সময় তিনি কোনও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থের প্রভাবে ছিলেন কি না? এবং ডোপ টেস্টে ধরা পড়া গাঁজার উৎসই বা কী? বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পাইলটের মাদকাসক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায়, পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এই তদন্তের পরিধির মধ্যে আসতে পারে।