দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কেয়া মণ্ডল: ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। শনিবার রাতে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ও ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। হামলার জেরে গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন আরাবুল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে গাড়িতে করে উড়িয়াপাড়া এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন আরাবুল ইসলাম। সেই সময় আচমকাই তাঁর গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। ইট, বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দ্রুত এলাকা ছাড়েন আরাবুল।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পোলেরহাট থানার পুলিশ। কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, কারা এর পিছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।
এই হামলার পিছনে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ,সাম্প্রতিক সময়ে আরাবুল ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট চর্চা হয়েছে। এক সময় তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পরে আইএসএফে যোগ দেন। সম্প্রতি আবার আইএসএফের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান আরাবুল। দল ছাড়ার ঘোষণার পরেই তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। সেই আইএসএফের সঙ্গেই এবার সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট করে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন আরাবুল। তাঁর অভিযোগ, আইএসএফের ‘স্বৈরাচার’ ও ‘একনায়কতন্ত্রের’ কারণে ভাঙড়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার-অনাচার নেমে এসেছে।