ঘূর্ণিঝড় আমফান-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ করল ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG)। শনিবার বিধানসভায় পেশ হওয়া কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে দেখানো হয়েছে। হাজার হাজার উপভোক্তাকে একাধিকবার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমফানের বদলে আগের ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ব্যবহার করেও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার বিধানসভায় ২৮টি সিএজি রিপোর্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম একসঙ্গে এতগুলি সিএজি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। সেই রিপোর্টেই আমফান ত্রাণ বণ্টি নিয়ে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতির উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২০ মে সুপার সাইক্লোন আমফান পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। সরকারি হিসাবে ৯৯ জনের মৃত্যু হয় এবং রাজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে রাজ্য সরকার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল (NDRF) থেকে ৩৫,০১৮ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চাইলেও কেন্দ্র দেয় ২,৭০৭.৭৭ কোটি টাকা।
ক্যাগের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তৈরি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব “অতিমাত্রায় বাড়িয়ে দেখানো এবং বাস্তবসম্মত নয়”। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ প্রমাণও পাওয়া যায়নি। জেলা-ভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পরীক্ষার জন্য না দেওয়ায় সেই মূল্যায়ন যাচাই করাও সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।