JAZZBAAT 24 বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোররাতের হাসপাতাল। সদ্যোজাতদের ওয়ার্ডে তখন চিকিৎসা চলছিল জোরকদমে। আচমকাই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। তার পরেই আগুন। সোমবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলা মহিলা হাসপাতালে ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। ভয়াবহ সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন সদ্যোজাতের। আগুন ও ধোঁয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া আরও কয়েকজন শিশুকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার সময়ে হাসপাতালের স্পেশ্যাল নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে ভর্তি ছিল ৩৯ জন সদ্যোজাত।
আগুন লাগার খবর ছড়াতেই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মীরা ছুটে যান ওই ওয়ার্ডে। প্রাণপণে শুরু হয় শিশুদের উদ্ধারের কাজ। চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একে একে সদ্যোজাতদের আগুনের এলাকা থেকে বার করে আনা হয়। কিন্তু তত ক্ষণে তিন শিশুর শরীরে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়া ঢুকে যায়। শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ছ’জন গুরুতর আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত কাছের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। অমরাবতীর ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ-সহ পুলিশকর্তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। কী ভাবে আগুন লাগল, ভেন্টিলেটর বিস্ফোরণের পিছনে ঠিক কী কারণ এবং হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই ঘটনায় গাফিলতির দায় কার, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
এ দিকে হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী যশোমতী ঠাকুর। তাঁর অভিযোগ, নতুন ভবনে থাকা নবজাতকদের এই ইউনিটে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল না। সেই কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি তাঁর। মহারাষ্ট্রের রাজস্বমন্ত্রী তথা অমরাবতীর অভিভাবক মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহত শিশুদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—হাসপাতালের যে ওয়ার্ডে জীবনের সঙ্গে লড়ছিল সদ্যোজাতরা, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার এত বড় গলদ কী ভাবে থেকে গেল?